News update
  • July Mass Uprising Day Today     |     
  • PM Inaugurates July Mass Uprising Memorial Museum     |     
  • BGMEA, OCAIB move to attract Chinese investment in RMG sector     |     
  • BSTI finds dangerously high mercury levels in 8 skin creams     |     

সমুদ্রে ১২ ঘন্টা মরণপণ যুদ্ধ করে বেচেঁ ফিরলেন ১২ জেলে, এখনও নিখোঁজ-২

দূর্ঘটনা 2026-07-10, 12:45am

twelve-fishermen-survive-after-battling-for-12-hours-at-rough-sea-on-thursday-ad04e92a2bb95e7ed6e011e0b8e931631783622711.jpg

Twelve fishermen survive after battling for 12 hours at rough sea on Thursday



পটুয়াখালী: কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১২ জেলে ১২ ঘন্টা মরনপন যুদ্ধ করে প্রাণে বাঁচলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে আরও ২ জেলে। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার দিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে এই মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছিল। নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫)এবং শহীদ(৫৭)।

জানা গেছে, দুলাল মাঝির  ট্রলারটি গভীর সাগর থেকে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার জন্য রওনা করছিলো। হঠাৎ করেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলারটি যখন উল্টে যায়, তখন কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা তলিয়ে যায়। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রলারে থাকা মাঝিসহ বাকি ১২ জেলে উত্তাল সাগরের বুকেই ভাসতে থাকে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু করে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন ১২ জেলে। বুধবার  ভোরে ভাগ্যক্রমে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের নজরে আসেন তারা। ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃতর জেলেদের মধ্যে  দুলাল মাঝি (৪৫) , কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) এবং শামীম (৩২) এর নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাকি জেলেদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। এদের প্রত্যেকের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিদ্রা সকিনা এলাকায়। 

নিখোঁজ দুই জেলে কালাম ও শহীদকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে সাগরের অবস্থা এখনও উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। 

এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ আর কান্নার রোল। স্বজনদের আকুল আর্তনাতে মৎস্য বন্দর আলিপুর- মহিপুর সহ উপকূলীয় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

জেলেদের দাবি, নিখোঁজ কালাম ও শহীদকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের আড়তদার ও জেলেদের সুত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার মাঝে সমুদ্র মাছ শিকারে গিয়ে অনেক ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ট্রলারে থাকা জেলেদের ভাগ্যে কি আছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কি পরিমাণ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।

কুয়াকাটা উপকূলের জেলেদের একটি সুত্র জানিয়েছেন, সমুদ্রে একাধিক লাশ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। যা তীরে আসতে সময় লাগবে। ইতিমধ্যে ১টি অর্ধগলিত মরদেহ কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শামীম হাওলাদার জানান, ট্রলার ডুবি বা জেলে নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ জিডি করেনি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নিখোঁজদের পরিবার বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনগত সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জান বলেন,কালকে থেকে এখন পর্যন্ত সাগরে অনেক মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। তার মধ্যে অনেক জেলে উদ্ধার হয়েছে,কিছু জেলে নিখোঁজ আছে। কোস্টগার্ড সাগরে তাদের খোঁজ করছে।আমরা কোস্টগার্ডের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। - গোফরান পলাশ