
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাঠ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে সকল রিটার্নিং অফিসারকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসি সচিবালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ এর ১৬ নম্বর বিধির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি এবং ই-মেইল আইডিসহ শনাক্তকরণ যাবতীয় তথ্য রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে বা তথ্য প্রদান না করে কোনো প্রকার ডিজিটাল প্রচারণা চালানো আচরণ বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। বিধিমালার ২২ (২) ধারা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন বিষয়ক যেকোনো কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, পোস্ট বুস্টিং বা স্পন্সরশিপের পেছনে হওয়া যাবতীয় খরচ প্রার্থীর সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ছকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ খরচের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সকল রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোন কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন, তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করে ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণ করেন।
এই নির্দেশনার ফলে এবারের নির্বাচনে ভার্চুয়াল জগতের অপপ্রচার রোধ এবং নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কমিশনের নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়ম না মেনে প্রচারণা চালালে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলসহ অন্যান্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।