News update
  • Bangladesh Heads to First Gen Z-Driven Competitive Poll     |     
  • EC Lifts Mobile Phone Ban, Bars Photos Inside Booths     |     
  • Youth participation vital to BD’s democratic future: C’wealth Group     |     
  • Stocks retreat on week’s first trading day as turnover drops     |     
  • Free education for girls up to honours if BNP wins: Zubaida Rahman     |     

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যা বললেন মামুনুল হক

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক নির্বাচন 2026-02-09, 11:58pm

retertre-0d892feaed5f362419a5d55ea292fd9c1770659925.jpg




বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো--

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আজ আমি আপনাদের সামনে কিছু কথা বলতে এসেছি একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় নিমগ্ন একজন মানুষ হিসেবে। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে নয় বরং একান্ত দায়বদ্ধতা, আমানতদারিত্ব এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় নিয়ে। 

শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযোদ্ধাদের-যাঁদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। স্মরণ করছি শাপলা গণহত্যা, জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সব শহীদকে-যাঁদের অসীম সাহসিকতা, ত্যাগ, তিতীক্ষা ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায্যতা নিয়ে কথা বলতে পারছি।

আমি আরও স্মরণ করছি ১৯৪৭ সালে যাঁরা ইনসাফ, ইসলামী সুশাসন ও মূল্যবোধের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আমাদের সবার। এই দেশ কোনো গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়, এই দেশ শ্রমিকের, কৃষকের, আলেমের, মজুরের, নারী-পুরুষের, পাহাড়ি-সমতলের, মুসলমান-অমুসলমান-সবার।

বাংলাদেশ কেবল একটি রাষ্ট্র নয়- বাংলাদেশ একটি আত্মত্যাগের নাম, একটি ঈমানি ইতিহাসের নাম, একটি সংগ্রামের উত্তরাধিকার। এই দেশের মাটি শহীদের রক্তে ভেজা, এই সমাজ আলেম-ওলামা, ওলি-আউলিয়া ও মজলুম মানুষের দোয়ায় গড়া।

কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের মানতে হবে- ১৯৪৭ থেকে ২০২৪-এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা বহুবার দিকভ্রান্ত হয়েছি। দুর্নীতি, জুলুম, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। আজ সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছে- এই দেশ কি সত্যিই জনগণের হাতে আছে? নাকি কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে বন্দী? রাষ্ট্র কি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে? ন্যায়বিচার কি সবার জন্য সমান? তরুণদের ভবিষ্যৎ কি নিরাপদ? রাজনীতি কি আদৌ মানুষের কল্যাণের জন্য হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই আজ আমি আপনাদের সামনে এসেছি। 

প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনে করে- রাজনীতি ক্ষমতা দখলের খেলায় পরিণত হলে রাষ্ট্র ধ্বংস হয়, সমাজ ভেঙে পড়ে। আমরা বিশ্বাস করি- ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়, মানবিকতা ছাড়া শান্তি আসে না, আর জালিম ও দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। 

একটি প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র সেই রাষ্ট্র- যেখানে আইন সবার জন্য সমান, ক্ষমতা হবে আমানত, আর রাষ্ট্র দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অনাচারের বিরুদ্ধে থাকবে আপসহীন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজনীতি করে ক্ষমতার জন্য নয়। আমরা রাজনীতি করি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা রাজনীতি করি জুলুমের অবসানের জন্য। আমরা রাজনীতি করি যেন রাষ্ট্র মানুষের শত্রু না হয়ে মানুষের আশ্রয় হয়।

আমরা বিশ্বাস করি- রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষের জীবন, সম্পদ, ইজ্জত ও বিশ্বাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়া, বেকারকে কাজ দেয়া, নির্যাতিতকে ন্যায়বিচার দেয়া। আমরা এমন রাজনীতি চাই না, যেখানে উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়, আমরা এমন রাজনীতি চাই না, যেখানে নির্বাচন মানে নাটক, আর সংসদ মানে হাত তোলার যন্ত্র।

প্রিয় দেশবাসী, আমাদের রাজনীতি ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন নয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০০৯-এর পিলখানা ট্র্যাজেডি, ২০১৩-এর শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান- এই প্রতিটি অধ্যায়ে আমরা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

আমরা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের, ২০১৩-এর শাপলার শহীদদের, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, খুবাইবসহ ২০২৪-এর সকল শহীদ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামী কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

আমরা চাই- প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংলাপ শেষে প্রণীত রাষ্ট্রসংস্কারের একগুচ্ছ প্রস্তাব সম্বলিত “জুলাই সনদ” এর ন্যায্য দাবিগুলোকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আন্তরিকভাবে সমর্থন করে এবং এর বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে “হ্যাঁ”-এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

গণভোটের যে বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট আকারে সন্নিবেশিত হয়েছে তার অনেকগুলোতেই দ্বিমত করার অবকাশ থাকলেও এর চেয়ে সুন্দর কোনো বিকল্প আমাদের কাছে নেই। তাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আমরা দেশবাসীকে হ্যাঁ -এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী, ২০০৮ থেকে ২০২৪- প্রায় ১৬ বছর বাংলাদেশ এক গভীর সংকটের ভেতর দিয়ে গেছে। উন্নয়নের প্রচারের আড়ালে

রাষ্ট্রব্যবস্থা ক্রমে দমনমূলক হয়ে উঠেছে।

এই সময়ে আমরা দেখেছি- গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হাজার হাজার গায়েবি মামলা, কারাগারে অমানবিক নির্যাতন। নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি, ভোটের মর্যাদা হারিয়েছে।

অর্থনীতিতে- লুটপাট, ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এই বাস্তবতায় আমরা বলছি- শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বাংলাদেশের সমস্যার মূল কোনো একটি সরকার নয়- সমস্যার মূল হলো ব্যবস্থা।

যে ব্যবস্থায় দুর্নীতিবাজ নিরাপদ, আর সৎ মানুষ কোণঠাসা- সে ব্যবস্থায় পরিবর্তন ছাড়া মুক্তি নেই।

যে ব্যবস্থায় টাকার জোরে সব কেনা যায়- ভোট, বিবেক, এমনকি আইনও- সে ব্যবস্থায় রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।

আমরা বলছি- রাষ্ট্রসংস্কার ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন অর্থহীন।

আমরা চাই- স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসনের রাজনীতিমুক্তকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এগুলো ছাড়া কোনো সুবিধাই জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না। এগুলো একটি সভ্য রাষ্ট্রের ন্যূনতম শর্ত।

প্রিয় তরুণ সমাজ, তোমাদের হতাশা আমরা বুঝি। ডিগ্রি আছে, যোগ্যতা আছে- কিন্তু কাজ নেই। আমরা বলছি- কর্মসংস্থান হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টিধর্মী কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলব, যেখানে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে উদ্যোক্তা তৈরি, চাকরি ও কর্মসংস্থান-মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, বরং কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ।

প্রতিটি পরিবারের ন্যূনতম একজনের উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের স¤প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে আমরা তরুণদের জন্য সম্মানজনক ও টেকসই কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দেব, ইনশাল্লাহ। তরুণরা এগিয়ে এলে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে-এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই আমাদের পথচলা।

প্রিয় মা ও বোনেরা, নারীকে আমরা ভোগের বস্তু নয়,রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার গঠনের অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে  নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ পরিবেশ থাকবে, হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা হবে।

অসহায় নারীদের জন্য সরকারি শেল্টার হোম, আইনগত সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা থাকবে। যৌতুক, নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। সম্পদে নারীর ন্যায্য প্রাপ্তি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।

প্রিয় কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি ভাইয়েরা, আপনাদের হাড়ভাঙা খাটুনি আর মেহনতে ভর করেই এই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ আপনাদের জীবনমানের অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত নয়। আপনাদের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক বিদ্যমান সুবিধা আপনাদের পর্যন্ত পৌঁছায় না। আল্লাহ যদি আপনাদের সমর্থনে আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে ধান, চাল, গম, সবজিসহ সকল কৃষিপণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষিযন্ত্র, সার ও বীজে ভর্তুকি এবং সহজ কিস্তির সুবিধা থাকবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রিয় প্রবাসী ভাইয়েরা, আপনাদের রেমিট্যান্সে দেশ চলে- কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনারা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা চাই- প্রবাসীদের জন্য আলাদা সেবা কাঠামো এবং সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। প্রবাসীবান্ধব নীতিমালার অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।

দালাল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদ ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি ব্যাংক ডেস্ক কার্যকর করা হবে।

 

প্রবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি, ২৪/৭ জরুরি হেল্পলাইন চালু এবং দেশে ফেরত প্রবাসীদের জন্য পুনর্বাসন ও ব্যবসায়িক সহায়তা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হবে। প্রবাসীদের জন্য বিনা সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করা হবে এবং বিমানবন্দরসহ সকল পর্যায়ে হয়রানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

প্রিয় দেশবাসী, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই-

🔹 যেখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ন্যায়বিচার রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নিশ্চিত হবে।

🔹 যেখানে দুর্নীতি দমনে শূন্য সহনশীলতা থাকবে এবং প্রশাসন হবে জবাবদিহিমূলক।

🔹 যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে শক্তিশালী ও পেশাদার, কিন্তু কোনো বিদেশি নির্ভরতার শিকলে আবদ্ধ নয়।

🔹 যেখানে পররাষ্ট্রনীতি হবে মর্যাদাপূর্ণ ও স্বার্থভিত্তিক, এবং মুসলিম বিশ্বের ন্যায্য প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান থাকবে।

🔹 যেখানে শিক্ষা হবে নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়। ধর্মীয় মূল্যবোধকে সামনে রেখে সার্বজনীন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে।

সম্মানিত  ধর্মপ্রাণ দেশবাসী, আমরা বিশ্বাস করি- প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতির মধ্যে সুষম ভারসাম্যই ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে, যা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত হবে। তবে কেউ তার নিজস্ব ধর্ম, উপধর্ম বা ভ্রান্ত মতবাদকে অন্য কোনো স্বীকৃত ধর্মের নামে প্রচার বা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন ও সুন্নাহ সর্বোচ্চ নির্দেশনা হিসেবে থাকবে।

খতমে নবুয়ত আমাদের ঈমানের অংশ। সুতরাং খতমে নবুয়ত অস্বীকারকারী কাদিয়ানি তথা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে আমরা অমুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেব-যেমনটি বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কার্যকর রয়েছে। তবে কোনো নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রাষ্ট্র কখনো ক্ষুণ্ন করবে না।

রসুলুল্লাহর (সা.) সহচর সাহাবায়ে কেরাম হলেন উম্মাহর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং সত্যের মাপকাঠি। রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথই হবে আমাদের নীতিগত ভিত্তি।

ইসলামি শিক্ষা, তাহজিব ও তামাদ্দুন বিস্তারে দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসরণে গড়ে ওঠা কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার অবদান অনস্বীকার্য। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। কওমি শিক্ষার সরকারি সনদ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কওমি শিক্ষা বোর্ডসমূহের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও আইন দ্বারা সুরক্ষিত কওমি শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সম্মানিত নাগরিক সমাজ, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, পাহাড় ও সমতল নির্বিশেষে প্রত্যেকেই বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা পাবে। উর্দুসহ পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হবে।

মসজিদভিত্তিক সামাজিক সালিশ, পরিবার কাউন্সেলিং, যাকাত বিতরণ ও ন্যায়বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

প্রিয় দেশবাসী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল ও নীতিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আমরা বিশ্বাস করি- জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বিভক্তি নয়, প্রয়োজন ঐক্য। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশে ২৬টি আসনে “রিকশা” প্রতীকে নির্বাচন করছে। দেশের অবশিষ্ট আসনগুলোতে নীতিগত সমঝোতার ভিত্তিতে আমাদের সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোকে সমর্থন দিচ্ছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামী সুশাসনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে।

এই ইশতেহারটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ২২ দফার সুস্পষ্ট অঙ্গীকারে প্রণীত- যেখানে ছয়টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আমাদের ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়- এটি আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।

আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্র আল্লাহভীতি, সৎ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানবিক সুশাসনের ওপর দাঁড়ায়- সেই রাষ্ট্রই শান্তি ও সমৃদ্ধির ঠিকানা। আমাদের ইশতেহার ক্ষমতা প্রাপ্তির অবাস্তব দাবি নয়; বরং যারা এই ইশতেহারের সঙ্গে অধিক একাত্মতা পোষণ করবে, তাদেরকেই সরকার গঠনে আমরা সমর্থন দেব। আমাদের কাছে দল নয়- ইসলাম, দেশ ও জনগণের কল্যাণই অগ্রাধিকার।

প্রিয় দেশবাসী, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়- এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। আপনাদের একটি ভোট- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে পারে, ন্যায়ের পক্ষে সাক্ষ্য হতে পারে, হতে পারে- ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার নেয়ামক। 

আমি আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি- ভোট দিন ভয়মুক্তভাবে, ভোট দিন বিবেকের দায়ে, ভোট দিন ইনসাফের পক্ষে। 

প্রিয় দেশবাসী, আমরা চাই- একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ, একটি মানবিক রাষ্ট্র, একটি আল্লাহভীরু নেতৃত্ব। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের সমর্থনে, আপনাদের সাহসে, এবং রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়ে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিই তার মানুষের কাছে। আমাদের হবে-আমাদের দেশ। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

আল্লাহু আকবার। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।