
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে হারানো একসময় অসম্ভব বলেই মনে করতেন আর্লিং হালান্ড। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্সেই সেই ধারণা ভেঙে দিলেন তিনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার পর নিজের বিস্ময়ের কথাই জানালেন হালান্ড।
ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, 'কখনও ভাবিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারাতে পারব। ছোটবেলা থেকে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন থাকলেও এমন জয় কল্পনার বাইরে ছিল। ফুটবলে অনেক কিছুই অসম্ভব মনে হয়। তবে, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে সেই ধারণা ভুল।'
হালান্ড যোগ করেন, 'এই জয় শুধু একটি ফল নয়, এটি দলের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতিফলন। আত্মবিশ্বাস ও দলীয় সমন্বয়ই এনে দিয়েছে এই ঐতিহাসিক সাফল্য।'
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ পায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টিও পায় তারা। তবে, ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড। এই সেভই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৭৯ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান হালান্ড। এরপর ম্যাচের ৯০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট সরাসরি জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলকে বড় ধাক্কা দেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ দেন নেইমার। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এই জয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। এর আগে তাদের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোতে পৌঁছানো।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় নরওয়ে। সেখানে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।