
ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাইয়েছে বাংলাদেশ। যার শুরুটা হয়েছিল টাইগার পেসারদের হাত ধরে। আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে পুরোপুরি একদিনও ব্যাটিং করতে দেননি বাংলাদেশি পেসরারা। গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ বোলিং করছেন হাসান মাহমুদ-তাসিকন আহমেদরা।
বাংলাদেশের পেসারদের সাফল্যের এই পথটা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়লেও এখনো তাসকিন-শরিফুলদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এই প্রোটিয়া কোচের। নজড় রেখেছিলেন প্রথম টেস্টেও।
আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে টাইগারদের সতর্ক করে দিয়েছেন ডোনাল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া অডিও বার্তা তিনি জানিয়েছেন, ঘরের মাটিতে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
ডোনাল্ড বলেন, “(দ্বিতীয় টেস্টে) বাংলাদেশকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে অস্ট্রেলিয়া তাদের সবটুকু শক্তিনিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজে খুব সহজেই মনে হতে পারে যে—‘ধুর, সমস্যা নেই, আমরা সিরিজ তো আর হারছি না’। আর তাই রক্ষনাত্মক মানসিকতা নিয়ে চিন্তা করা শুরু হতে পারে—‘ধুর... যদি ম্যাচটা ড্র করতে পারি, তাহই আমাদের কাজ শেষ’।”
ডোনাল্ড মনে করেন, ডারউইনে বাংলাদেশ যে ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে খেলেছে, দ্বিতীয় টেস্টেও একই পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সাবেক এই ফাস্ট বোলারের মতে, ডারউইন জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর যে দৃঢ় মনোভাব বা ক্যারেক্টার।
তিনি বলেন, “যখন আগের ম্যাচে আপনি ৫৪ রানে গুটিয়ে যান, সত্যি বলতে তখন মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত বোধ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এরপর তাদের প্রতিক্রিয়া বা প্রত্যাবর্তন এক কথায় অসাধারণ ছিল।”
অ্যালান ডোনাল্ড যখন বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন, তখন হাসান মাহমুদ তরুণ পেসার ছিলেন। অনেকটা তার হাত ধরেই বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের এই বিপ্লবী যাত্রা। এক সময়ের নিজের শীষ্যদের প্রশংসা করে ডোনাল্ড বলেন, “তারা (পেসাররা) অত্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করেছে। হাসান এখন অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। তার জন্য আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।”
হাসান মাহমুদকে নিয়ে সাবেক এই টাইগার কোচ বলেন, “কয়েক বছর আগে যখন প্রথম নেটে তাকে দেখেছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল এই ছেলেটির দারুণ দক্ষতা রয়েছে। বোলিংয়ে তার নিয়ন্ত্রণ চমৎকার। একেবারে নিখুঁত জায়গায় বল ফেলতে পারে এবং দু’দিকেই সুইং করাতে পারে।”
সাম্প্রতিক সময়ে নিজের গতি দিয়ে আলো কেড়েছেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা। গতির ঝলকে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন তিনি। তবে চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে নেই তিনি। তবুও দারুণ সফল বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট। প্রথম ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন পেসাররা।
ডোনাল্ডের মতে, নাহিদকে ছাড়াই বোলারদের এমন পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, দলের পেস ইউনিটের গভীরতা কতটা বেড়েছে। তিনি বলেন, “একটি বোলিং আক্রমণের গভীরতা কতটা শক্তিশালী তা বোঝা যায় তখনই, যখন নাহিদ রানার মতো একজন বাইরে থাকার পরও ইবাদত হোসেনের মতো কেউ এসে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে দিতে পারে।”