
ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার গোল উদযাপন। ছবি: বার্সেলোনার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি রাফিনিয়া। তবে চলতি মৌসুমে রীতিমতো উড়ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এখনও পর্যন্ত লা লিগার সাত ম্যাচে ১২টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে তিনটি। সবশেষ সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টানা সপ্তম জয় এনে দিয়েছেন বার্সেলোনাকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সেভিয়ার মাঠে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে কাতালানরা। ইউসুফ ফোফানার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, প্রথমার্ধেই সমতা টানেন রাফিনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে জয়ের নায়ক তিনি। ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও. দলের শেষ দুই গোলে সহায়তা করেন আরেক তারকা লামিন ইয়ামাল।
এদিন প্রথমার্ধে দুই দলই লড়াই করে সমানে সমান। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। রেসিং সান্তানদেরের বিপক্ষে ৭-২ গোলে জয়ের ম্যাচ থেকে একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক।
ওই ম্যাচে প্রথমার্ধে হাঁটুতে চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া মূল গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার জায়গায় দ্বিতীয়ার্ধে নামা ভয়চেখ স্ট্যান্সনির বড় একটি ভুলে গোল হজম করতে হয় দলকে। সেভিয়ার বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেয়ে এই ক্লাবের হয়ে অভিষেক হয় দমিনিক লিভাকোভিচের।
বার্সেলোনার শুরুটা হয় ইতিবাচক। অষ্টম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত তারা, কিন্তু ইয়ামালের বাঁ পায়ের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। উল্টো ১৯তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে বার্সেলোনা।
ম্যাচে নিজেদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় সেভিয়া। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে চমৎকার ক্রস দেন ফেলিক্স কোররেয়া আর কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠান ফরাসি মিডফিল্ডার ফোফানা।
জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনা। ২২তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক হাফিনিয়া। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের পাস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে আরেক জনের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি।
৪৪তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে বার্সেলোনার সামনে, কিন্তু বক্সে ভালো পজিশনে বল পেয়ে শটই নিতে পারেননি পেদ্রি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রদ্রির দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বার্সেলোনা।
বক্সে ফাঁকায় বল পান কোররেয়া, চমৎকার এক ট্যাকলে তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী রদ্রি। ৫২তম মিনিটে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
সেভিয়ার বক্সে দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, সঙ্গে লেগে থাকা দুই খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে চমৎকার ক্রস দেন ইয়ামাল, ছয় গজ বক্সের মুখে জোরাল হেডে জাল খুঁজে নেন হাফিনিয়া।
৬৪তম মিনিটে অলিম্পিক গোলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত রাফিনিয়ার। কর্নারে নেওয়া তার শটে বল গোলরক্ষকের একটু সামনে পড়ে বাঁক খেয়ে দূরের পোস্টে লাগে।
তবে হ্যাটট্রিকের জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি তাকে। চার মিনিট পরই সেই স্বাদ পান তিনি। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ২৯ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড।
এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়ার গোল হলো সাত ম্যাচে ১২টি, সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে তিনটি। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে আট ম্যাচে তার গোল হলো ১৪টি। আগের ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।
৭৭তম মিনিটে রাফিনিয়াকে তুলে কারিম আডেইয়েমিকে নামান ফ্লিক, শেষ দিকে গোল পেতে পারতেন এই জার্মান উইঙ্গার, কিন্তু তার প্রচেষ্টা দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক।
প্রথম সাত ম্যাচের সবকটি জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। একটি করে ম্যাচ কম খেলে সমান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দুইয়ে ও রেয়াল বেতিস তিনে আছে।