
প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে এখনো বাকি এক ম্যাচ। শেষ পরীক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। শেষ ম্যাচে একটি জয়, ড্র কিংবা অন্তত ভালো খেলার লক্ষ্য বাংলাদেশের।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা সুকর্ণ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। অনলাইনে দেখা যাবে স্পোর্টসজিফাই।
আসিয়ান কাপের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই জমিয়ে তোলে দল। যদিও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারে কোচ টমাস ডুলির দল।
প্রথম দুই ম্যাচেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তাই শেষ ম্যাচে আর হারানোর কিছু নেই হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের। এ ম্যাচে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলুক বাংলাদেশ, এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের।
যদিও সেটি খুব একটা সহজ হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থেকেই এ ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দলের পার্থক্যটা স্পষ্ট—ইন্দোনেশিয়া আছে ১১৭তম স্থানে আর বাংলাদেশ আছে ১৮২তম স্থানে। র্যাঙ্কিং বিবেচনায় আগের দুই ম্যাচের চেয়েও কঠিন হওয়ার কথা এই ম্যাচটি।
পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। এখন পর্যন্ত ৬ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া। যার মধ্যে ৪ বার জিতেছে ইন্দোনেশিয়া। বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মোটে একটি ম্যাচে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এতকিছুর মাঝেও বাংলাদেশের জন্য শক্তির জায়গা দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচের ফলাফল। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয় সে ম্যাচ। অবশ্য সেই তুলনায় দল দুটির শক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘ফুটবলে সবই সম্ভব। আমরা ভক্তদের দারুণ একটি পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। আমি মনে করি, আমাদের সমর্থকরাও সেটাই দেখতে চান।’
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে শুধু মাঠেই লড়াই করতে হবে না বাংলাদেশকে, সঙ্গে লড়তে হবে গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার স্বাগতিক সমর্থকের চাপের বিরুদ্ধেও। জাকার্তার যে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, সেই মাঠের ধারণক্ষমতা প্রায় ৯০ হাজার। সুতরাং বড় সংখ্যক স্বাগতিক দর্শকের সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে বাংলাদেশকে।