News update
  • Ensure no fascist force can ever use police against people: PM     |     
  • 5 BNP, Jamaat men held in Kushtia for seeing drug dealer’s release     |     
  • Japan views Bangladesh as key dev partner: Jamaat Ameer     |     
  • Credit cards emerge as a financial lifeline for middle-class     |     
  • Call for a radical shift to solar, LNG to overcome energy crisis     |     

কোরবানির আগে কমেছে মসলার দাম

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বানিজ্য 2026-05-10, 10:31am

56t5345345-1623a9d4d21bbf96a7ccb0e4fddccffb1778387504.jpg




কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সাধারণত মসলার বাজারে চাহিদা ও দাম-দুটোই বেড়ে যায়। তবে, এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এলাচ থেকে শুরু করে জিরা, জায়ফল, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিসমিস, আলু বোখারাসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দাম আগের তুলনায় কমেছে। দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে বেচাকেনাও। 

রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি মসলা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাজারে গরম মসলার বেচাকেনা চলছে ঠিকই, তবে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত দুই বছরের তুলনায় এবার মসলার দাম কম এবং বাজারে সরবরাহও বেশি।

আস্ত দারুচিনির দাম ভাঙা দারুচিনির তুলনায় কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেশি। বর্তমানে চীনা দারুচিনি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৩৬০ টাকা। আর ভিয়েতনামের আস্ত দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৪৮০ টাকা।

অন্যদিকে, গোলমরিচের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারি বাজারে কালো ও সাদা-দুই ধরনের গোলমরিচই পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় সব গোলমরিচ ভিয়েতনাম থেকে আমদানি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় কালো গোলমরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছর প্রতি কেজি কালো গোলমরিচ বিক্রি হয়েছিল ৯৫০ টাকায়, এবার তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩০ টাকা।

তবে, সাদা গোলমরিচের দাম কমেছে। বর্তমানে এটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার ২২০ টাকায়। গত বছর একই পণ্য বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৩৫০ টাকায়।

মক্কা-মদিনা ট্রেডার্সের মো. সুজন জানান, বাজারে মানভেদে বিভিন্ন ধরনের এলাচ প্রতি কেজি তিন হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে এলাচ এবার পাঁচ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গত বছর সেটাই ছিল পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা।

তিনি জানান, মধ্যমানের ‘এলএমজি’ এলাচ বর্তমানে কেজিপ্রতি চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ২০০ টাকা বেশি। গত বছর একই এলাচ বিক্রি হয়েছিল চার হাজার ৭০০ থেকে চার হাজার ৮০০ টাকায়। এছাড়া অপেক্ষাকৃত কম মানের ‘এসএমজি’ এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল চার হাজার টাকা। গত বছর এসব এলাচের দাম ছিল চার হাজার ৩০০ টাকা।

আরও একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে ভারতীয় জিরা প্রতি কেজি ৫১৫ টাকা এবং আফগান জিরা ৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি লবঙ্গ এক হাজার ৩০০ টাকা, কালো গোলমরিচ এক হাজার ৩০ টাকা, সাদা গোলমরিচ এক হাজার ২৩০ টাকা, জায়ফল মানভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম এক হাজার ৩০০ টাকা, সোনালি কিসমিস ৮০০ টাকা এবং লম্বা কিসমিস ৭৯০ টাকা, মেথি ১৩২ টাকা, ধনিয়া ১৬০ টাকা, মৌরি ১৭৫ টাকা এবং দারুচিনি ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও দাম কিছুটা বেশি ছিল, তবে এখন কমেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত থাকায় আমদানি বেড়েছে, ফলে বাজারে মসলার দামও কম।

মেসার্স সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ বেচাকেনা হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। আগে এই সময় এত ব্যস্ত থাকতাম। দুপুরে খাওয়ার সময়ও পেতাম না। এবার সেই তুলনায় বাজার অনেকটাই ফাঁকা।

সান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ঈদের আগে শুধু মসলার বাজার নয়, কোনও বাজারই ভালো না। ভারত থেকে চোরাই পথে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মসলা দেশে ঢুকছে। এতে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। অবৈধ পথে আসা পণ্যে ট্যাক্স দিতে হয় না। ফলে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

পলাশ ট্রেডার্সের মালিক মো. রিপন বলেন, ঈদের আগে এমন অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। এবার বেচাকেনা একদমই কম।

এ বিষয়ে বেগম বাজার-মৌলভীবাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির আগে অনেক ধরনের মসলার দাম কমে গেছে। প্রতি কেজি আলু বোখারার দাম ৫০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকায়। পাঁচ হাজার ২০০ টাকার এলাচ এখন চার হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে দারুচিনিও বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের। চীন থেকে আমদানি হওয়া ভাঙা দারুচিনি ২৫ কেজির বস্তায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম থেকে আসা আস্ত দারুচিনি ১০ কেজির প্যাকেটে বিক্রি হয়।