News update
  • Trade, Energy, Economic Coop, Rohingyas to Feature Dhaka-Tokyo Talks     |     
  • Dhaka Ranks 6th Among World’s Most Polluted Cities Today     |     
  • Bangladeshis Spend Tk 9.87 Billion Abroad Using Cards     |     
  • UNICEF Chief Urges Bangladesh to End Child Marriage     |     
  • Oil Prices Hit $110 as Middle East Tensions Escalate     |     

বাজেটে বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমা, করজাল সম্প্রসারণে তাগিদ অর্থনীতিবিদদের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বানিজ্য 2026-05-16, 3:42pm

87c5f5995fff72384031134ff91a5f5ca2ab00a0cdc2b20d-5c16914fe252ad44c6cfd4a620ccd6431778924523.png




আসছে বাজেটে আরও বাড়তে পারে করমুক্ত আয়সীমার সুযোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত সীমার সঙ্গে আরও ২৫ হাজার টাকা যোগ করে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে করহার ও কর স্ল্যাবেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আয়-ব্যয়ের বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তারা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করের হার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণে জোর দেয়া উচিত।

দেশের জিডিপির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাত থেকে। অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা এই খাতের উদ্যোক্তারা বছরজুড়ে করসংক্রান্ত নানা জটিলতায় ভোগেন। এর বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে আয়কর।

করপোরেট ডিউর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুবর্ণা রায় বলেন, সরকার যদি একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর মওকুফ করে, তাহলে আমাদের বিক্রি বাড়বে এবং আমরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবো। 

বিডিজেজিপিইএর সভাপতি রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, সমন্বিত উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তাদেরও করের আওতায় আনতে হবে। তবে কর ব্যবস্থার জটিলতা দূর না হলে বছরের পর বছর একই সমস্যা চলতেই থাকবে। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বহাল রেখে বাজেট ঘোষণা করেছিল। তবে তখনই জানানো হয়েছিল, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। 

এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন বিএনপি সরকার করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে করের স্ল্যাব বা স্তর ৭ থেকে কমিয়ে ৬ করা হতে পারে। এছাড়া প্রথম স্ল্যাবে করহার ৫ শতাংশ নির্ধারণের চিন্তাও রয়েছে। 

তবে সাধারণ করদাতারা বলছেন, করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি কর আদায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেয়া উচিত। একজন করদাতা বলেন, সবাইকে করের আওতায় আনা উচিত। তবে কর কর্মকর্তাদেরও সহনশীল হতে হবে।

আরেক করদাতা বলেন, সাড়ে ৩ লাখ টাকার সীমা বাড়িয়ে অন্তত ৫ লাখ টাকা করা হলে অনেকেই কর দিতে উৎসাহিত হতেন। যারা এখন কর দিতে ভয় পান, তারাও ধীরে ধীরে করের আওতায় আসতেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, করের হার ও সীমা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা দরকার। একইসঙ্গে যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে নতুন করদাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। 

বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, আয়সীমা নির্ধারণে যৌক্তিক মানদণ্ড ব্যবহার করতে হবে। যারা এরই মধ্যে কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণের দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে গত ১৪ মে পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ৫০ লাখ করদাতা। এর মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৪১ লাখ। 

বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য শক্তিশালী কর সংস্কৃতির বিকল্প নেই। নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে কর যেন জনগণের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও সরকারের নজর রাখা প্রয়োজন।