News update
  • Consumers face fresh burden as 12kg LPG cylinder price rises to Tk 2,060     |     
  • Cabinet Approves 29 Public Holidays for Bangladesh in 2027     |     
  • Extreme heat linked to over 5,500 excess preterm births in BD     |     
  • Talks on Ganges to be based on BD’s legitimate demands: Shama     |     
  • Safe food drive: Tk 35.5 lakh fined, 28 cases filed in October     |     

৬৭০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, প্রতিযোগী দেশে ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার শঙ্কা

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন

বানিজ্য 2026-11-03, 8:07am

img_20261103_080732-823d149c50cb0c79f8c26bbb4b7e26df1793671666.png




মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে ৬৭০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক উৎপাদন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। 

আর বিশ্লেষকদের মতে, এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর জিডিপিতে এখাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। এ খাতে চলমান অস্থিরতায় সংকটে পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। 

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বন্ধ হয়েছে অন্তত ৬৭০ পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে না পারায় ব্যাহত হয়েছে উৎপাদনও।

বিজিএমইএ–এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘মজুরি ঘোষণা হওয়ার আগেই; যেটার সময় পার হয়ে যায়নি, সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা মানে এখানে মজুরি আন্দোলনের বাইরেও অন্য কারও ইন্ধন থাকলেও থাকতে পারে।’ 

অক্টোবর থেকে মার্চ, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। সারা বছরের রপ্তানি কার্যাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই মৌসুমে। এই সময় শ্রম অসন্তোষে কারখানা বন্ধ থাকায় বিদেশি ক্রয়াদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোরে কাছে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

বিকেএমইএ–এর  নির্বাহী সভাপতি শামীম এহসান বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের আগ্রাসন– সবকিছু মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতি এখন একটা চ্যালেঞ্জের জায়গাতে রয়েছে। এই অবস্থায় যদি নতুন করে বেতন বাড়ে, এর কারণে অনেকের পক্ষেই সেই টাকাটা বাইরে থেকে আনা সম্ভব হবে না। ফলে তারা হয়তো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।’

গেল অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের এই শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানে চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সাবেক শ্রম সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের পরিবহন সেক্টর, আমাদের অন্যান্য ব্যবসা, জনজীবন– অস্থির একটা অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বড় রফতানিমুখী আমাদের যে পণ্য (তৈরি পোশাক) সেখানে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে।’ 

এর আগে, গত শনিবার মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। দিনভর সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার একের পর এক কারখানা বন্ধ হতে থাকে।