
সমস্যাগ্রস্ত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের ওপর ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক নতুন সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া, ডিপোজিটের বিপরীতে তাৎক্ষণিক ঋণের সুযোগ আছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বড় অঙ্কের আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমানতকারীদের তারল্য সংকট দ্রুত সমাধান হয়।
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেছেন, আমানতকারীদের মূল আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত, তবে তা পর্যায়ক্রমে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করে বলেছেন, কিছু গ্যাপ বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার করতেই আজকের এই সভা। আগে আমরা একটি রেজুলেশন প্ল্যান দিয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবায়নের সময় কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সেগুলো আমরা প্রতিদিন পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করছি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা তুলতে পারছেন একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা। এর কম থাকলে পুরো টাকাই তুলতে পারছেন। একইসঙ্গে এখন সব স্কিম থেকেই টাকা তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার ও সুদ হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে দেরি হলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
গভর্নর জানান, ফিক্সড ডিপোজিট, মানি স্কিমসহ সব ধরনের স্কিম থেকেই এখন টাকা তোলা যাচ্ছে। গতকাল থেকেই এই সুবিধা চালু হয়েছে। বর্তমানে যে কোনো স্কিম থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। মেয়াদ পূর্তির ক্ষেত্রে আমানত রোলওভার হবে এবং সুদ পর্যায়ক্রমে তোলা যাবে।
আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ, ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। যেসব আমানতকারীর বড় অঙ্কের টাকা রয়েছে কিন্তু পুরোটা তুলতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ডিপোজিটের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কারও যদি ২০ কোটি টাকা জমা থাকে, তাহলে তিনি চাইলে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে লিকুইডিটির সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।
গভর্নর আরও বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা সময়সাপেক্ষ। সব ভেন্ডরের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অনলাইন সেবা, আরটিজিএস ও এটিএম কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে। খুব শিগগিরই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।