News update
  • Deadly Inani Beach Fire Exposes Gaps in Tourism Safety     |     
  • PM Tarique Rahman Pledges Inclusive Dev in Dialogue with Persons with Disabilities     |     
  • PM Inspects 13 Dhaka Sites, Sets Deadlines for Cleanliness     |     
  • Efforts to build a clean Bangladesh must start now, PM tells students     |     
  • Five killed as fire breaks out in Cox’s Bazar resort     |     

ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি 2026-06-11, 7:01pm

img_20260611_185757-546e410eaa1d367791ca66ea244bd3c11781182870.jpg




দেশের ফ্রিল্যান্সার-কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এতে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্জিত সব ধরনের আয়কে করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।  পাশাপাশি এ খাত থেকে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনায় এ প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নতুন বাজেট সব প্রকার ফ্রিল্যান্সিং আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন হতে আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতদিন শুধু আইটি  ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি সুবিধা বিদ্যমান ছিল।

এ পদক্ষেপের ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছে সরকার। একইসঙ্গে দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কাজকে ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও স্বীকৃতি দিচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, সরকার একটি বৈশ্বিক মানের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের ডিজিটাল মেধা ও মননকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে এ ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়া হবে বাজেটে। এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট এবং স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট মওকুফ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।