
ডিজিটাল গ্রাহকসংখ্যার ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থাপনার ফলে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেও ব্যবসায়িক সাফল্য ও মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ২৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট রাজস্বের ৯.৪ শতাংশ।
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে রবির রাজস্ব হয়েছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৮ পয়সা, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩.৭ শতাংশ বেশি।
প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা পৌঁছেছে ৫ কোটি ৯২ লাখে। ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ২৮ লাখ। বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশই ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন, যা দেশে ডিজিটাল সংযোগসেবা গ্রহণের ধারাবাহিক প্রবণতার প্রতিফলন।
তৃতীয় প্রান্তিকে সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধনের আগের আয় হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ৫২.৮ শতাংশ মার্জিনসহ। এই মার্জিন আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১.৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে রবির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন এই অগ্রগতি।
নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নেও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে রবি। তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির মূলধনি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রান্তিক শেষে দেশজুড়ে রবির চালু ফোর-জি নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উন্নত ডিজিটাল সংযোগ সেবা পাচ্ছেন।
এ সময় সরকারকে রাজস্ব হিসেবে ৭০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিয়েছে রবি, যা প্রতিষ্ঠানটির ওই সময়ের মোট রাজস্বের ২৬ শতাংশ।
আগের প্রান্তিকের তুলনায় রবির রাজস্ব প্রায় স্থিতিশীল ছিল, যা মাত্র ০.৯ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধনের আগের আয় কমেছে ৪.৯ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয়ও ৪.৪ শতাংশ কমেছে।
২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে রবির মোট রাজস্ব হয়েছে ৭ হাজার ৯২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রবির মোট মূলধনি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এ সময়ে সরকারকে রাজস্ব হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ওই সময়ের মোট রাজস্বের ৬৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ফলাফল সম্পর্কে রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, “২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে আমাদের ব্যবসায়িক ফলাফল প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ভিত্তি
এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সংযোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশ ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন।এটি বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের প্রতিফলন এবং এ পরিবর্তনে রবির অগ্রণী ভূমিকার প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন, গ্রাহক সেবার অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে রবি।
জিয়াদ সাতারা বলেন, দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও অন্যান্য অংশীজনের জন্য টেকসই মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে রবি পরিকল্পিত বিনিয়োগ, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে যাবে।