
সব ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাচ্ছে রূপপুরের ‘জ্বালানি লোডিং’ কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া। তবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও বছর খানেক।
প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের রাশিয়ার নভোসিভিরস্ক থেকে রূপপুরে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর কারিগরি ও নিরাপত্তাগত দিক যাচাইয়ে দেশের প্রথম পারমাণিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে বহুস্তরে চলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।
অবশেষে দেশে ইউরোনিয়াম আসার আড়াই বছর পর জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলো রূপপুরের প্রথম ইউনিট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে, থাকছে না আর কোনো বাধা।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সব ঠিক আছে। অনেক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছি আমরা।’
নির্মাণ প্রকল্পের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু হতে পারে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের কার্যক্রম। তবে তার মানে এই নয় যে, সহসাই রূপপুর থেকে মিলবে পুরোদমে বিদ্যুৎ। এ পর্যায়েও বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার মাইলন্টোন পেরোতে প্ল্যান্টটিকে। সব মিলিয়ে এই মেগা স্থাপনাটির পূর্ণ সুফল পেতে অপেক্ষা আরও অন্তত বছর খানেক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিড পর্যন্ত প্রত্যেক ধাপে যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা সেটা কয়েক ধাপে চেক করতে হয়। এ জন্য পর্যাপ্ত সময় নিতে হয়। এতে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সব ঠিক আছে কিনা, রেগুলেটরি বডি সেগুলো চেক করে সার্টিফিকেট দেবে।’
বৈশ্বিকভাবে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় যথেষ্ট স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত পারমাণবিক প্রকল্প। তাই পুরোদম উৎপাদনে যাওয়ার আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রূপপুরের কারিগরি ও নিরাপত্তাগত দিক যাচাইয়ের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাশিয়ার টেকনোলজি ব্যবহার করছি, এবং আমাদের রেগুলেটরি বডি নবাগত। ফলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কারিগরি ও নিরাপত্তাগত দিক যাচাই করে নেয়া সবচেয়ে ভালো হয়।’
প্রকল্পসূচিতে নির্ধারিত চালুর সময় পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে ব্যয়ও বেড়েছে আর্থিক হিসেবে। তাই বিলম্ব না করে দ্রুত চালুর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে রূপপুরের দুই ইউনিট থেকে মিলবে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যা দেশের একক কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা।