
বিয়ের কথা উঠলেই বাংলাদেশে অনেক পরিবারে যে প্রশ্নটি অবধারিত তা হলো ‘ছেলে কী করে?’ উত্তর যদি হয় ‘সরকারি চাকরি’, পাত্রের গ্রহণযোগ্যতা যেন এক ধাপ বেড়ে যায়। আর উত্তর যদি হয় ‘বেসরকারি চাকরি’, তখনই শুরু হয় বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা হিসাব।
প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আর্থিক ব্যবধান আরও দৃশ্যমান হতে পারে। আর এর প্রভাব পড়তে পারে বিয়ের বাজারেও এমন মত সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাদেশের বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরির প্রতি বাড়তি আকর্ষণ নতুন নয়। নিয়মিত বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, বিভিন্ন ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধার কারণে অনেক পরিবারের কাছে সরকারি চাকরি এখনও পাত্রের বড় যোগ্যতা। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি চাকরির ধরনও হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
প্রস্তাবিত পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীরা তুলনামূলক স্থিতিশীল আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক মূল্যায়নেও।
গণমাধ্যমকর্মী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরির প্রতি বিয়ের বাজারে বাড়তি আগ্রহ নতুন নয়। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আর্থিক ব্যবধান আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে বিয়ের বাজারেও বেসরকারি চাকরিজীবীরা আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া দুই তরুণের কথা ধরা যাক। একজন সরকারি চাকরিতে ঢুকে নিয়মিত বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বেতনে কর্মজীবন শুরু করছেন। সময়ের সঙ্গে দুজনের আয় বাড়লেও শুরুর এই ব্যবধান অনেক সময় সামাজিক তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে বেসরকারি খাতের সব চাকরির চিত্র এক নয়। ব্যাংক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত পেশায় অনেকের আয় সরকারি চাকরির চেয়েও বেশি। তবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে বেসরকারি চাকরিতে দ্রুত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত।
বিয়ের বাজারে চাকরির পরিচয়ের প্রভাব এখনও প্রবল। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা আরও বাড়লে সেই আকর্ষণও বাড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের মূল্যায়ন শুধু চাকরির ধরন বা বেতনের অঙ্কে নয়, তার যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।