
ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর সাফল্য উদযাপন করা হয়েছে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সেখানে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলন, পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠান ও বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
‘অ্যাশেস অ্যান্ড আইস: দ্য ডরম্যান্ট জায়ান্ট এক্সপেডিশন ২০২৬’ শীর্ষক বাংলাদেশ–রাশিয়া মৈত্রী অভিযাত্রার সফল সমাপ্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অতিথি এবং পর্বতারোহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মূল সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) প্রতিষ্ঠাতা এনাম আল হক।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছানো বাংলাদেশি পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল তাঁর অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রেজেন্টেশন ও বিশেষ ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিযাত্রার বিভিন্ন পর্যায়, চ্যালেঞ্জ এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।
শাকিল জানান, প্রচণ্ড তুষারপাত, হিমশীতল বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর সহ-অভিযাত্রীদের এগিয়ে যেতে হয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে তাঁরা সফলভাবে পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছাতে সক্ষম হন। অভিযানে সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় বহন করা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর। পর্বতারোহণের এই অর্জনের স্মারক হিসেবে পতাকাটি অতিথিদের কাছে তুলে দেন শাকিল।
এদিকে অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল রাশিয়ান হাউসের গ্যালারিতে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী। রাশিয়ান হাউসের পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা এ. খ্লেভনয় অতিথি ও পর্বতারোহী শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। পরে অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্লভ ও স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি স্থান পেয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই অভিযান সাহস, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরও একটি প্রতীক। যৌথ উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখবে।