News update
  • Cabinet Approves Secretariat Relocation to Sher-e-Bangla Nagar     |     
  • Nearly Half of Bangladesh’s Families Are in Debt: BBS     |     
  • Bangladesh Seeks Details on Execution of Two Nationals     |     
  • Former Bangladesh Air Force Chief Arrested in Qatar     |     

স্মৃতি হয়ে রইল খালেদা জিয়ার রোপিত নিমগাছ

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) বিবিধ 2025-12-31, 5:31pm

tertreter34-9debe397301f8a4ca3d4cb232797e2711767180686.jpg

খালেদা জিয়া না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈতৃক বাড়ির দরজায়। ছবি : ইউএনবি



বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর ইহলোকে নেই। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিনি না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈতৃক বাড়ির দরজায়।

২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তার পৈতৃক বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এলে বাড়ির দরজার সামনে দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘিরপাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরিচর্যায় গাছটি বড় হলে গোড়া পাকা করে খালেদা জিয়ার নামটি খোদাই করে লিখে দেওয়া হয়। সেই গাছটি এখন কেবলই স্মৃতি। 

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত ফেনীবাসী।

মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার পৈতৃক ভিটায়ও চলছে শোকের মাতম। এ সময় সবাই খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া না থাকলেও তার হাতে লাগানো নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে মজুমদার বাড়িতে।

এই বাড়িতে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতরে বসার চেয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট খাট, খাবারের টেবিল- সবকিছুতেই লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৮ সালেও ফেনীর ফুলগাজীতে বাবার বাড়িতে এসে দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা। শোকে মূহ্যমান খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক আদর করতেন। তাঁকে হারিয়ে দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি কখনও পোষাবে না।’

নিজ পৈতৃক নিবাসে জনসাধারণের জন্য খালেদা জিয়া নির্মাণ করেছেন মাদরাসা, মসজিদ-স্কুল-কলেজসহ বহু স্থাপনা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফুলগাজীসহ ফেনী জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম পুতুল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার দাদা সালামত আলী, নানা তোয়াবুর রহমান। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়ায় তার জন্ম। আদি পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি।

খালেদা জিয়া পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এরপর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে তিনি খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস শুরুর আগে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।

১৯৬০ সালের আগস্টে যখন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়, তখন জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডিএফআইয়ের কর্মকর্তা হিসেবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।