
বাস নয়, চলমান প্রাসাদ!। ছবি: সংগৃহীত
সুপার কার নির্মাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বরগিনি এবার ভিন্ন পথে হাঁটছে। দ্রুতগতির স্পোর্টস কারের পর এবার তারা নজর দিচ্ছে বিলাসবহুল ভ্রমণের জগতে। প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করছে একটি ডাবল-ডেকার মোটর হোম, যেখানে সুপার কারের নকশা ও আধুনিক ভ্রমণের সর্বোচ্চ আরাম একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি যানবাহন নয়-বরং বিলাসী জীবনযাপনের চলমান প্রতিচ্ছবি।
সুপার কারের ছোঁয়ায় দোতলা মোটর হোম
এই মোটর হোমটি মূলত তাদের জন্য, যারা ভ্রমণের সময়ও আরাম, স্টাইল ও আধুনিক সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো আপস করতে চান না। রাস্তায় চলার সময় যেন সুপার কার চালানোর অনুভূতি পাওয়া যায়—সে লক্ষ্যেই নকশা ও প্রকৌশলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ল্যাম্বরগিনি।
বাহ্যিক নকশা: আধুনিক ও বায়ুগতিশীল
ডাবল-ডেকার মোটর হোমটির বাহ্যিক নকশায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ল্যাম্বরগিনির সুপার কারের ডিএনএ। বায়ুগতিশীল গড়ন, ধারালো লাইন এবং আধুনিক এলইডি লাইটিং গাড়িটিকে সাধারণ মোটর হোম থেকে আলাদা করে তুলেছে।
আকারে বড় ও দোতলা কাঠামোর হলেও নকশায় ভারী ভাব নেই। বড় কাচের জানালা ও খোলা ছাদের নকশার কারণে ভেতরে ঢোকে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো। ফলে দিনের বেলায় ভেতরের পরিবেশ থাকে উজ্জ্বল ও স্বস্তিদায়ক। চলন্ত অবস্থায় যাত্রীরা সহজেই উপভোগ করতে পারবেন চারপাশের প্রকৃতি ও পথের দৃশ্য।
ভেতরের আয়োজন: চলমান বিলাসবাড়ি
মোটর হোমটির অভ্যন্তরীণ নকশায় আরাম ও ব্যবহারিক সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়েছে প্রশস্ত লাউঞ্জ, আরামদায়ক শোয়ার ঘর, আধুনিক রান্নাঘর এবং আলাদা বিনোদন অঞ্চল।
ভাঁজ করা ও সরানো যায় এমন আসবাব ব্যবহারের ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী জায়গার বিন্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব। উন্নত আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় ভ্রমণেও ভেতরের পরিবেশ থাকে আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক।
চলাচল ও নিরাপত্তা: আকারে বড়, নিয়ন্ত্রণে নিখুঁত
দোতলা ও বড় আকারের হলেও মোটর হোমটির চলাচলে স্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী ইঞ্জিন ও আধুনিক প্রযুক্তি। উঁচু-নিচু রাস্তা কিংবা দীর্ঘ পথের ভ্রমণেও গাড়িটি থাকবে স্থির ও ভারসাম্যপূর্ণ।
উন্নত স্টিয়ারিং ও ব্রেকিং সিস্টেমের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি, যা চালক ও যাত্রীদের দেবে বাড়তি নিশ্চয়তা।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার
উচ্চ ক্ষমতার যান হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে ল্যাম্বরগিনি। জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও জ্বালানি খরচ কমবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণেও পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।