News update
  • Humanitarian Aid For Rohingyas Dwindles in Largest Refugee Camp      |     
  • We Came for Action, Not Promises: Bonn Talks Ended in Frustration     |     
  • Italy declares red heatwave alert in 15 cities     |     
  • Bangladesh Eyes $1bn Carbon Gains From 25 Crore Trees     |     
  • Weak revenue collection, rising debt threaten economic stability     |     

হজ্জ এর গুরুত্ব ও করণীয়

মতামত 2022-06-27, 12:37pm

কাবা শরীফ বা বায়তুল্লাহ শরীফের ঘরই আল্লাহ তায়ালার ঘর।



মুফতী মাওলানা রুহুল আমিন

খতীব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

কাবা শরীফ বা বায়তুল্লাহ শরীফের ঘরই আল্লাহ তায়ালার ঘর। হযরত আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকে এই পবিত্র ঘর এখনও পর্যন্ত বিদ্যামান রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আকাশের ফেরেশতা যেমন বায়তুল মামুর তাওয়াফ করেন, দুনিয়ার ফেরেশতাও তদ্রুপ বায়তুল মামুর সাদৃশ্য দুনিয়ার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন। আদম (আ.)- ও এই ঘর তওয়াফ করতেন। তারপর সমস্ত পয়গম্বরগণই এই ঘর দর্শন ও তাওয়াফ করেছেন। তাই আল্লাহ তায়ালার সর্বাধিক পেয়ারা, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ পয়গাম্বর হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে এই ঘরের কাছে প্রেরণ কররেছেন, এই মহান ঘরের যিয়ারত ও তাওয়াফের জন্যে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানকে হুকুম করেছেন এবং পাপমুক্তির স্থান নির্বাচিত করেছেন। বিবেকের বিচারে এবং মহব্বতের আইনে প্রত্যেক মুসলমানের এই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে হজ্জ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে শরীয়তের হুকুম সহজ কররে দেওেয়া হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেছেন আল্লাহর উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘর য়িয়ারত করা সেই সমস্থ মানুয়ের উপর ফরজ, যাদের সেখানে পৌঁছানোর মত সঙ্গতি রয়েছে। এ কারণেই সমস্ত ফিকহের কিতাবে হজ্জ ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত লাগোনো হয়েছে। হজ্জের সফরের কদমে কদমে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতি সাধনের অভ্যাস হয়।

আল্লাহর অবারিত রহমতের স্থান কেন্দ্রীয় দরবার বাইতুল্লায় গিয়ে যেন মানুষ নিজেকে সঁপে দিতে পারে। তাই আত্মশুদ্ধির জন্য এই সফর অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মানুষ যদি একটু খেয়াল করে, তবে এই সফরে অনেক কিছু অর্জন করতে সক্ষম হয়।‘সবর ঈমানের অর্ধেক’এই সফরে মানুষের সবরের অভ্যাস খুব ভালোভাবে হয়। সবর অর্থ নফসের মতের বিরুদ্ধে নফসকে বাধ্য করা। খাওয়া-দাওয়া, ওঠা-বসা, কথাবার্তা সবক্ষেত্রেই নফসকে তার মতের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করা।

ফলকথা এই যে, বিভিন্ন অসহনীয় কাজকে সহনীয় করে নফসকে পরিমার্জিত ও পরিশুদ্ধ করে নেয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। মুজাহাদাই মুশাহাদা অর্জন করার সোপান যেহেতু বাড়ির চিন্তা, বিষয়-সম্পত্তির চিন্তা ইত্যাদি সাংসারিক সমস্ত বিষয়াদি পরিত্যাগ করেই মানুষ হজ্জে গমন করার ইচ্ছা করে। বাকি থাকে শুধু এক নফসের বিষয়। তা দমন করার উত্তম সুযোগ এই সফরে পাওয়া যায়। অবশ্য বান্দার কোন কাজই ইরাদা ও চেষ্টা ছাড়া হাসিল হয় না। কাজেই আত্মশুদ্ধির ইচ্ছা ও চেষ্টা করা দরকার। শরীয়তের যাবতীয় হুকুম-আহকামের মধ্যে আল্লাহর হুকুম পালন করে, আল্লাহর রেজামন্দি ও সন্তুষ্টি হাসিল করে আখেরাতের মুক্তি লাভ করাই হজ্জের প্রধান ও মূখ্য উদ্দেশ্য। হজ্জের মধ্যে হযরত আদম (আ.) হতে শুরু করে যত পয়গম্বর, গাউছ, কুতুব, আবদাল, সিদ্দীকীন, শুহাদা, সালেহীন ঐ পবিত্র স্থানসমূহে তাশরীফ রেখেছেন তাদের মাজার এবং স্মৃতি-চিহ্ন রয়েছে। যা অবলোকন করলে তাঁদের কামালিয়াত ও মহৎগুণাবলি স্মরণ হয়। মানুষ ইচ্ছা করলে সেই সমস্ত কামালিয়াত ও গুণাবলি নিজের মধ্যেও অনেকটা আয়ত্ব করতে পারে। যে মৃত্যুকে স্মরণ করলে মানুষের জাগতিক আশা আকাঙ্খা হ্রাস পায়, তা অর্জন করার প্রধান উপায় হলো হজ্জের এই সফর। মানুষ যখন এই সফরে রওয়ানা হয়, তখন যেন মৃত্যুরই নমুনাস্বরূপ সংসারের মায়া ত্যাগ করে এবং পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধি অর্জন করার এক চেষ্টায় মনোনিবেশ করে।

হজ্জের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পকে কিছু হাদিছ রয়েছে সেগুলো হলো- নবী আলাইহিস সালাম এরশাদ করেন— (যার উপর হজ্জ ফরজ হয়েছে তার হজ্জের নিয়ত করা আবশ্যক) এবং যে হজ্জ করার ইচ্ছা করেছে, তার দ্রুত হজ্জ করা প্রয়োজন, তিনি আরও বলেছেন যার প্রকাশ্য শরয়ী কোন ওজর বা অভাব নেই, জালেম বাদশাহ যাকে বন্দি করে রাখেনি কিম্বা অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী হয়নি সে যদি হজ্জ না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে (তার মৃত্যু মুসলমানের মৃত্যু হবে না)

সে ইহুদী হয়ে বা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করুক। (দারেমী); আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। কী ভয়ঙ্কর সর্তকবাণী! হযরত রছুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে— বান্দার কোন আমলটি সর্বশ্রেষ্ঠ? হযরত বলেছেন— সর্বশ্রেষ্ঠ আমল ও সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত আল্লাহকে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর রছুলকে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ ‘ঈমান’। প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেন, তারপর কোন আমল সর্বশ্রেষ্ঠ? হযরত এরশাদ করেন—আল্লাহর পথে যুদ্ধ। তারপর কোন আমল সর্বশ্রেষ্ঠ? এর উত্তরে হযরত বলেছেন— হজ্জে মকবুল অর্থাৎ যে হজ্জ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। (বুখারী ও মুসলিম); নবী আলায়হিচ্ছালাম বলেন অর্থ এক ওমরা হতে অন্য ওমরা পর্যন্ত যা (ছগিরা) গোনাহ হয়েছে, ওমরা তার জন্য কাফফারা এবং হজ্জে মকবুলের পুরস্কার বেহেশত ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। হযরত (দ.) বলেছেন— যে ব্যক্তি খাঁটি দিলে আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করবে এবং হজ্জের মধ্যে কোন প্রকার গোনাহর কাজ না করবে এবং কোন ফাহেশা কথা, ঝগড়া, গালা-গালি অথবা কোন নফসানী খাহেশের (নাফরমানীর) কাজ না করবে। সে যখন হজ্জ করে ফিরে আসবে, তখন সে সমস্ত গোনাহ হতে এমন পবিত্র হয়ে যাবে, যেমন নবজাত শিশু হয়ে থাকে। হজ্জ আল্লাহর দরবারে কবুল হলে সমস্ত গোনাহ মাফ হয়ে যায়, এই কথাই এ হাদীছের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ছগিরা গোনাহ তো মাফ হয়ই, অনেক আলেমের মতে হজ্জে মাবরুরের দ্বারা কবীরা গোনাহও মাফ হয়ে যায়। কারণ হজ্জের মধ্যে বহু তওবা-এস্তেগফার করা হয়। কান্না-কাটি ও কাকুতি-মিনতি করে মাফ চাওয়া হয়। যার কারণে গোনাহে কবীরাও মাফ হয়ে যায়। কিন্তু হক্কুল এবাদ অর্থাৎ পরের দেনা মাফ হয় না। আল্লাহ পাকের কত বড়ো রহমত যে, বান্দা ফরজ আদায় করলে সে তাহার কর্তব্য পালন করে। কিন্তু আল্লাহ পাক তাকে আরও কত পুরস্কার দান করেন। 

হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর প্রত্যেক হাজী সাহেবকে অত্যন্ত সতর্কতা ও পরহেজগারীর সাথে জীবনযাপন করবেন। হজ্জের নাম দিয়ে হাজী সাহেব পদবি লাগিয়ে কোন ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন না। অপ্রয়োজনে হজ্জের গল্প, মোয়াল্লেমদের দোষক্রটি বা ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করা যাবে না। হজ্জে যা টাকা পয়সা খরচ হয়েছে তার জন্য আফছোছ থেকে বিরত থাকতে হবে। 

এইসব কাজে হজ্জের ছওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে আবার হজ্জ করে এসে, হালাল কাজ কর্মও করতে চায় না, এটাও ভুল। হালাল জীবিকা নির্বাহে কোন দোষ নেই। কিন্তু খবরদার! হালাল করতে গিয়ে হারামের মধ্যে, লোভের মধ্যে ও পাপের মধ্যে অভ্যস্ত হওয়া যাবে না। আল্লাহ! আমাদের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করুন এবং হজ্জে মাবরুর নছীব করুন।

পিআইডি ফিচার