
A discussion meeting marking the 53rd anniversary of the death of Fazlul Quader Chowdhury on Saturday in Dhaka. Muslim League 18 july 26
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, তৎকালীন মুসলিম লীগের সভাপতি, ৪৭ এর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং উপমহাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম অগ্রনায়ক মরহুম আলহাজ এ.কে.এম. ফজলুল কাদের চৌধুরীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ফজলুল কাদের চৌধুরীর যে রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল, সেটিই মূলত এ ভূখ-ের মানুষের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা রক্ষার রাজনীতি, বর্তমান প্রজন্ম ধীরে ধীরে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আবুড়ী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ফজলুল কাদের চৌধুরী বুঝতে পেরেছিলেন, উপমহাদেশে ভারতীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মুসলিম জাতিসত্তা ও এ ভূখ-ের মানুষের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষা করা
সময়ের দাবি। তাঁর রাজনীতি কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং এ অঞ্চলের মানুষের আত্মমর্যাদা, সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার রাজনীতি ছিল। আজকের তরুণরাও সেই দর্শনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে শুরু করেছে। বক্তারা বলেন, ফজলুল কাদের চৌধুরী শুধু জাতীয় রাজনীতির একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, উন্নয়ন কর্মকা-েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়, যোগাযোগ অবকাঠামো, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাঁরা আরও বলেন,
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক ধারাকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বক্তাদের মতে, আজ ইতিহাসের অনেক ধূলিকণা সরতে শুরু করেছে। নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারছে, এ ভূখ-ের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য, জাতীয় স্বার্থ এবং বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের যে দর্শন ফজলুল কাদের চৌধুরী ধারণ করেছিলেন, সেটিই ছিল আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি।আলোচনা সভায় অতিরিক্ত মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কেন্দ্রীয় নেতা শেখ আব্দুল কাইয়ুম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, তারেক জমির সজীব, এসআই ইসলাম মিলন, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মোল্লা, ডা. হাজেরা বেগমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে মরহুম এ.কে.এম. ফজলুল কাদের চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। - প্রেস বিজ্ঞপ্তি