
দেশে প্রযুক্তি ও এআই নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার যে বরাদ্দ ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, তার অংশ হিসেবে এই আধুনিক প্রযুক্তি সামগ্রী বিতরণ করা হবে। বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শিক্ষা কারিকুলামের যে রূপান্তর চলছে, শিক্ষকের হাতে ট্যাব প্রদান তারই একটি অন্যতম প্রধান অংশ। শিক্ষকদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করার এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ১০ হাজার নতুন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করার অংশ হিসেবে দেশের ৩২৯টি উপজেলায় একটি করে নতুন কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া দেশের মাদ্রাসাগুলো আধুনিকায়নে ১০০টি ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, ১০০টি আইসিটি ল্যাব স্থাপন এবং ৫০০টি নতুন ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেটের আওতায় দেশের ৪টি বিভাগে নতুন মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এছাড়া ‘প্রোগ্রেস’ ও ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১ লাখেরও বেশি যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে বাজেটে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য মোট ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (১২ হাজার ৩৯৫ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা) চেয়ে ৬ হাজার ৬১ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে।