News update
  • Biman signs deal with Airbus to acquire 10 jets     |     
  • Bangladesh Inflation Rises to 8.34% in September     |     
  • GDP growth accelerates to 3.68% in FY26     |     
  • Bangladesh eyes over $10b bilateral trade with Indonesia     |     
  • Prioritise Multilateralism to Resolve Iran War Humanitarian Crisis     |     

জ্বালানি সংকট আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান মালিক সমিতির

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংগঠন সংবাদ 2026-03-31, 2:07pm

r4tret5656456-c7f3b675dbd7cb1e0d91e9abaeac41161774944426.jpg




বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তারা বলেছেন, সরকারের নেওয়া রেশনিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাম্পে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তেল বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে গলফেশা প্লাজায় আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে অস্থিরতা, হামলা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও আতঙ্কের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, যদি সবাই নিজের গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। একজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে অন্য কেউ জরুরি প্রয়োজনেও তেল নাও পেতে পারেন। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক পেট্রোল পাম্পে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় ও আতঙ্কের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও তেলের দাবিতে পেট্রোল পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তাই এসব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সংগঠনটি পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তবতার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ সমন্বয় করা এবং ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্ধারিত রেশনিং অনুযায়ী তেল নিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাম্পে হামলা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।