News update
  • Stocks surge at DSE, CSE for second straight day     |     
  • REHAB seeks Tk 3000 crore special fund support housing sector     |     
  • Trump, Putin discuss Iran conflict, Ukraine settlement in phone call     |     
  • US Launches ‘Most Intense’ Strikes as Iran Vows Response     |     
  • Family Card Scheme to Cover 4 Crore Families in 5 Years     |     

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৪৪৭ প্রাণ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংগঠন সংবাদ 2026-03-06, 2:51pm

ryerterter-12dcd29319bbcec188d23757586e53ef1772787110.jpg




চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়কপথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। মাসজুড়ে মোট ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল সড়কপথই নয়, বরং রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ। ফেব্রুয়ারিতে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ হাজার ১৯৭ জন পঙ্গুত্ব বা গুরুতর জখমের শিকার হয়েছেন। 

ফেব্রুয়ারি মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ছিল। মাসজুড়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ। বিভাগীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; যেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন। 

দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং ২ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু এবং ৪৭ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংগঠিত দুর্ঘটনার ৪১.৭৪ শতাংশ ছিল গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা এবং ৩৩.২৫ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ। 

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪২.৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৫.৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে। যানবাহনের ত্রুটি এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার প্রধান কারিগরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ফিডার রোড থেকে হঠাৎ প্রধান সড়কে যানবাহন উঠে আসা এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন না থাকাকেও দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নীতিগত দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

এছাড়া দক্ষ চালকের অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা সড়কে মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছে। নিরাপদ সড়কের জন্য অবিলম্বে আমূল সংস্কার ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।