
নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবারের (২৪ জুলাই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত এবং কঠোর শাস্তির বিধান সংবলিত একটি খসড়া বিল নিয়ে আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল ২২ লাখ শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে না দেওয়া। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং কয়েক দিন আগে ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের পর অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমরা এখানেই থেমে থাকতে চাই না। তাই আজ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তারা রাত পর্যন্ত কাজ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী সপ্তাহে সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হলে বিলটি দ্রুত পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারের এই ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
সিজেপির অভিযোগ, প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার এখনও দায় নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সংগঠনটি শুক্রবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এবং প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আবারও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সরকারি বাসভবন বা দপ্তরে বৈঠক করতে সরকার প্রস্তুত।
তবে সিজেপি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আলোচনা জন্তর মন্তর অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো একটি নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে।