News update
  • 7 killed as bus collides with auto-rickshaw in Mymensingh     |     
  • Heatwaves Cost Bangladesh Nearly Tk 77,000 Crore a Year     |     
  • Protecting Bangladesh’s coastal people From Tide-induced Loss, Damage      |     
  • Four Warehouses Linked to Salman Muqtadir’s In-Laws Sealed     |     
  • Dengue surge: N’ganj hospitals treat patients on floors, verandas     |     

হত্যার দাবি করল ভারত, গণমাধ্যমের সামনে তাকেই হাজির করল পাকিস্তান

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-10-02, 5:52pm

img_20261002_175210-caf3e16ef9aeda43abf8c5e3fadc0e5c1790941945.jpg




ভারত কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসা নামের এক পাকিস্তানির কথা উল্লেখ করেছিল। এমনকি দাবি করেছিলে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে মূসা নিহত হয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে হাশিম মূসাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে ‘জীবিত ও সুস্থ’ বলে দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের হাশিম মূসাকে হত্যার দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উপহাস করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অভিযানে হাশিম মূসাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা মেরে ফেলার দাবি করলেও বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরীফ চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে সবার সামনে হাজির করে দাবি করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে যাকে নিহত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, ‘তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতীয় দাবিকে ‘তথাকথিত সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির পাঁচ দফা সময়রেখা তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিন্নার কোর তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কোরাগ ও ইউসমার্গের সাধারণ এলাকায় একটি অভিযান শুরু করেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর সকালে চিন্নার কোরের আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় বাহিনী অভিযানের সময় লস্কর-ই-তৈয়বার এক ‘সন্ত্রাসীর’ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোও (পিআইবি) একই ধরনের দাবি করে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ‘মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি’কে নিষ্ক্রিয় করা মে মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’র চলমান অভিযানের অংশ। এ বিষয়ে আহমেদ শরীফ চৌধুরী ব্যঙ্গ করে বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর মুসা ওরফে আসিফ ফৌজিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাই এ জন্য অভিনন্দন ও করতালি দেওয়া উচিত।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম আসিফকে কাশ্মীরে একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছিল। এসব হামলার মধ্যে ছিল ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট হালান, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিকেজি, ২০২৩ সালের মে মাসে কান্ডি, ২০২৪ সালের মে মাসে শাহ সিতার, ২০২৪ সালের জুনে শিব খোরি, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গানগানগীর, একই মাসে বুটা পাহাড়ি এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাসিরা এলাকার হামলা। ভারতীয় সরকার আরও দাবি করেছিল, আসিফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই গোষ্ঠীর আরও তিন সদস্যকে অভিযানে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সংবাদ সম্মেলনের পর এসব ‘লজ্জাজনক’ প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তত নিজেদের প্রচারের বিষয়ে লজ্জা পাওয়া উচিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলা উচিত। তিনি ভারতীয় পিআইবির একটি বিবৃতিও পড়ে শোনান, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বার চারজন ‘জ্যেষ্ঠ কমান্ডার’ নিহত হয়েছেন।এরপর তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়েও ব্যঙ্গ করেন।

তিনি নিউজ ১৮, দ্য স্টেটসম্যান, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি লাইভ এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে দেখান। পরে তিনি মোহাম্মদ আসিফকে মঞ্চে আসতে বলেন এবং জানান, আসিফ পাকিস্তানের আটক জেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে আসিফকে ‘সুপারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে তার ‘কৃতিত্ব’ সম্পর্কে জানতে চান।

আসিফ বলেন, আগের দিন তার বন্ধুরা ফোন করে জানিয়েছিল যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাকে হত্যা করেছে এবং তিনি ‘শহীদ’ হয়েছেন। কিন্তু তিনি জানান, তিনি জীবিত ও সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ভারতীয় নম্বর থেকে তার কাছে একাধিক ফোন এসেছিল। ফোনকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়, অবস্থান এবং ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে তার নাম জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইছিল। পরে এএনআইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাকে কাশ্মীরের একটি অভিযানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে তিনি বিস্মিত হন, কারণ তখন তিনি নিজের বাড়িতেই বসে ছিলেন। তিনি বিষয়টি তার ইউনিটকে জানান। ইউনিট থেকে তাকে ভারতীয় নম্বর থেকে আসা সব ফোন ব্লক করতে বলা হয় এবং জানানো হয় যে আইএসপিআরের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

আসিফ আরও জানান, তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ বা এসএসজিতে যোগ দেন এবং সেখানে ১৮ বছর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে আসিফ ‘মিথ্যা, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং এসব দাবির নিন্দা জানিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি জীবিত এবং সবার সামনে উপস্থিত আছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি তার দায়িত্ব সাহসের সঙ্গে পালন করেছেন এবং পাকিস্তান সামনাসামনি জবাব দেয়, আড়াল থেকে নয়।