News update
  • Tarique vows quick execution of Teesta Master Plan if elected     |     
  • How Undecided voters May Decide the Election     |     
  • Nearly one million security personnel to guard BD elections     |     
  • Restoring trust in Allah, Caretaker Govt; good governance, employment, no-revenge BNP's key election pledges      |     

ইরানে বিক্ষোভ দমনে এবার কঠোর সরকার, শুধু তেহরানেই একরাতে নিহত ২০০

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-01-10, 10:10am

werwew453rw-ca325c529ab083a0904863dd7d26697f1768018255.jpg




ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে গত বুধবার থেকে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।

রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এমনকি নিজ দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের। 

এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা করেছেন, যারা দেশে ধ্বংসাত্মক কাজ লিপ্ত হয়েছেন, তাদের মোকাবিলা করতে আর পিছপা হবে না সরকার। পরে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের যেসব চলছে, তা আর অব্যাহত রাখতে দেবে না তারা। 

বিবৃতি দেওয়ার পর বিক্ষোভ দমনে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সহিংস বিক্ষোভাকারীদের ওপর ব্যাপকহারে গুলি চালিয়েছে বাহিনীটি। এতে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে নিহত হয়েছে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।

ওই প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে এবার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন।

ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।

তবে, হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এবং সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শুক্রবার কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ধ্বংসকারীদের সামনে কখনোই পিছু হটবে না।’ বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এছাড়া তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট বলেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ অবস্থায় ইরান সরকারকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ জায়গাটি এই মুহূর্তে খুবই বিপজ্জনক।’