
জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কাজ নিয়ে সবসময় খুঁতখুঁতে। ভালো নির্মাণের জন্য তিনি সবসময় নিজেকে ভাঙেন-গড়েন। এরপরও দীর্ঘ পথচলায় যেমন দর্শকদের তালি পেয়েছেন, তেমনি সইতে হয়েছে তীব্র কটাক্ষ। এমনকি সরকারি নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে পড়ে তার একাধিক চলচ্চিত্র দীর্ঘকাল আলোর মুখ দেখেনি।
তবে বর্তমানে তিনি নতুন একটি চিত্রনাট্য তৈরিতে ব্যস্ত। আর সেই কাজের ফাঁকেই নিজের কাজের স্মৃতিচারণ করলেন।
নিজের ফেসবুক পেজে চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্য অনুভূতি ব্যক্ত করেন ফারুকী। ক্যারিয়ারের একটি কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের একটা ট্র্যাজিক দিক আছে। সিনেমা মুক্তির সময় আমার জ্বর এসে যায়। এর কারণ হচ্ছে ছবি মুক্তি পরবর্তী আক্রমণের আশঙ্কা।’
নিজের নির্মিত সিনেমা নিয়ে শুরুর দিকের নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টি জানিয়ে এই নির্মাতা বলেন, ‘আমি যখন যে সিনেমাই বানাই, মুক্তি পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাই—‘এটা কোনো সিনেমাই হয় নাই। ফালতু।’ ক্ষুণ্ন মন নিয়ে আমি তখন অন্য কাজে মন দিই। ভুলে যাই আগের কাজের কথা।’
দীর্ঘ সময় পর কাজের মূল্যায়ন হলেও ততদিনে নিজের উদ্যম কমে যায় বলে আক্ষেপ করেন ফারুকী। তিনি লেখেন, ‘দশ বছর পরে দেখি সেই ‘ফালতু’ সিনেমাকেই ক্লাসিক কাজ হিসেবে নতুন দর্শকরা পরিচয় করিয়ে দেয়। মিথ্যা বলব না, ব্যাপারটা ভালো লাগলেও ততদিনে আমার প্রাণশক্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। যে ভালোবাসাটা আগে পাইলে হয়তো আমি শারীরিকভাবে আরও তাজা থাকতাম। এই ঘটনা ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার’, ‘টেলিভিশন’, ‘৪২০’ সব ক্ষেত্রেই হইছে।’
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করে ফারুকী বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারতেছি না আমার এখন কী করা উচিত? আমি কি এখন থেকে ফিল্ম বানায়ে দশ বছর ভোল্টে রেখে তারপর রিলিজ দিবো?’
সিনেমা নির্মাণকে শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল মনে করেন এই চলচ্চিত্রকার। তার ভাষায়, ‘শিল্পচর্চার মতো ভালনারেবল কোনো কাজ আর নাই। স্পেশালি সেটা যদি হয় সিনেমা। আপনি কারো দৃষ্টিতে একটা ‘খারাপ’ কবিতা লিখলে সে আপনাকে মারতে তেড়ে আসবে না। কিন্তু সিনেমা?’
সবশেষে অনুরাগী ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফারুকী লেখেন, ‘লেখাটা পোস্ট করে মনে হইলো, যারা আমার কাজ ভালোবাসে, আমি কি তাদের ভুলে গেলাম? উত্তরটা ‘না’! আমারে শিল্পী হিসেবে বাঁইচা থাকার উৎসাহ আপনারা যারা দিচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। কিন্তু ওপরের কথাগুলো লিখলাম কারণ এখন একটা স্ক্রিপ্টের কাজ করছি। এইরকম সময়ে মন মাঝে মধ্যেই রিফ্লেক্ট করে অতীতের ঘটনার।’