News update
  • EC asks printing presses not to print election posters     |     
  • Protect your votes, conspiracies still on: Tarique to voters     |     
  • US ambassador warns of China's growing manufacturing dominance     |     
  • PKSF, BARC join hands to boost agricultural research and growth     |     
  • Govt Officials Barred From Backing ‘Yes’ or ‘No’ in Vote     |     

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিনব্যাপি প্রতীকী বইমেলা সফল করার আহবান

উৎসব 2026-01-29, 11:45pm

press-conference-on-ekushey-book-fair-held-on-thursday-864d33602e8b77a7671ac66e445f298c1769708742.jpg

Press conference on Ekushey Book Fair held on Thursday.



পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী বইমেলা করতে যাচ্ছে একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ এর পক্ষ বলা হয় যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়, যারা আমাদের ঐতিহ্যকে পছন্দ করে না তারা চায় না এই বইমেলা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লালটু।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে দিনব্যাপি প্রতীকী বইমেলা আয়োজন বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত ও মনোযোগ আকর্ষণের জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।

আপনারা জানেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ তথা সরকার অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভঙ্গ করে ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এবছর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এরূপ সিদ্ধান্ত দেশের হাজার হাজার লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ ব্যাপক জনগণকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। একুশের বইমেলা এদেশের মানুষের স্বাধীনতা-স্বাধীকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বাহান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতি বছর মাসব্যাপি স্থায়ী অমর একুশে বইমেলা আড়ম্বরের সাথে ১ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অমর একুশে বইমেলা আজ বিশ্বপরিসরেও প্রতিষ্ঠিত এবং গুরুত্ব অর্জন করেছে। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া সেই মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রকাশ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে একুশে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। এই মেলা ব্যাপক সংখ্যক লেখক, পাঠক তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অমর একুশে বইমেলা এদেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসব। এই মেলাকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এক আনন্দময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ, সৃজনশীল কর্মতৎপরতা এবং উদ্দীপনাময় নানা আয়োজন সংঘটিত হয়ে থাকে। জাতি ধর্ম বর্ণ লিঙ্গ শ্রেণী নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য বৈচিত্রপূর্ণ ও অসম্প্রদায়িক মিলনস্থল হিসাবে তা আজ খুবই জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আপনারা জানেন, প্রখ্যাত কবি লেখক গবেষক হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম সংকলন প্রকাশ করেছিলেন ভাষা সংগ্রামী মোহাম্মদ সুলতান তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘পুথিপত্র’ থেকে। এই ঐতিহাসিক সংকলন তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি করতেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। বই বিক্রয়ের এই বিষয়কে খানিকটা প্রসারিত ও স্থায়ী রূপ দিতে মোহাম্মদ সুলতান একুশে সংকলন ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘পুথিপত্র’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের সমাহার নিয়ে ১৯৬৮ সালে চট বিছিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বসা শুরু করেন। এভাবে তাঁর হাত ধরে আজকের একুশে বইমেলা। মোহাম্মদ সুলতানের এই প্রয়াসকে পরবর্তীকালে এগিয়ে নেন ’৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন লেখক বুদ্ধীজীবীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ‘স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ এর ব্যানারে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘মুক্তধারা’ এবং নিষ্ঠাবান প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহা। চিত্তরঞ্জন সাহা ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের সামনে চটের উপর ৩২টি বই নিয়ে বাংলাদেশ পর্বে প্রথম বইমেলার গোড়াপত্তন করেন, যা বর্তমানে অমর একুশে বইমেলা নামে দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি ও খ্যাতি লাভ করেছে। একুশে বইমেলা আজ আমাদের প্রাণের মেলা; জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মননশীলতার মেলা, দেশ-জাতি গঠনে যার অবদান অনস্বীকার্য। এই মেলা শুধুমাত্র বই কেনাবেচার মেলা নয়, এর সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, এই জনপদের মানুষের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও স্বাধীকার-স্বাধীনতার সংগ্রামী চেতনা। দেশ-বিদেশের অগণিত লেখক, প্রকাশক এবং লক্ষ লক্ষ পাঠক একুশের বইমেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীরা এমনকি অনেক বিদেশী নাগরিক বইমেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আগমনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। একুশে বইমেলার চিরাচরিত সময়সূচির পরিবর্তন তাই এ ধরনের ব্যক্তিগত কর্মসূচিকেও আক্রান্ত করে যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যম সূত্রে যখন জানা যায়, অমর একুশে বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে না করার ব্যাপারে বাংলা একাডেমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তখনই সংস্কৃতি কর্মীরা এর প্রতিবাদ করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা করার দাবিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যৌথমঞ্চ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের পক্ষ থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৫ বাংলা একাডেমির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

পরবর্তীকালে এ বিষয়ে পুস্তক প্রকাশক, লেখক, কবি, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের সাথে কয়েক দফা আলোচনার পর গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্দ্যোগে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ শিল্পকলা একাডেমি সেমিনার কক্ষে এক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজন করার পক্ষে জোরালো মতামত প্রদান করেন এবং এই দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ঐদিনই ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।

অমর একুশে বইমেলা যথাসময়ে আয়োজনের দাবিতে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জাল হোসেন মানিক মিঞা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা অধিকাংশ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বইমেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার আহবান জানিয়ে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে সময় বেধে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের দিক থেকে কোন সাড়া না পেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বইমেলা শুরু করার এবং স্টলভাড়া ৫০% কমানোর দাবিতে ১১ নভেম্বর ২০২৫ শাহবাগে সমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী দেওয়া হয়। এ দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে পদযাত্রা কর্মসূচিতে ব্যাপক সংখ্যক প্রকাশক, লেখক, পাঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেন। এই দাবীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ৩ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংঘ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এছাড়া বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতিন ঢাকা, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন ১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা অনুষ্ঠানের দাবির প্রতি সংহতি জানায়। কিন্তু বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জনগণের এসকল দাবি, আবেদন নিবেদনের প্রতি কর্ণপাত না করে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে বইমেলা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়।

১ ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজন না করার কারণ হিসাবে কর্তৃপক্ষ জাতীয় নির্বাচন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন। জাতীয় নির্বাচন দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নাই, কিন্তু আমরা মনে করি নির্বাচনের পরিবেশ এবং আইন শৃঙ্খলার অজুহাতে একুশের বইমেলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয়। বইমেলায় পাঠকের আগমন ও উপস্থিতি কোনভাবেই নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটবে না বলে আমরা মনে করি। ইতোপূর্বে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের নজির রয়েছে, পবিত্র রমজান মাসেও বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে সময় বইমেলা স্থগিতের কোন ঘটনা ঘটেনি, প্রশ্নও উঠেনি। কর্তৃপক্ষ মনে করলে নির্বাচনের দিন এবং প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের এবং পরের দিনও বইমেলা বন্ধ রাখতে পারতেন।

দেশবাসী গভীর বেদনার সাথে আরো লক্ষ্য করছে যে, বইমেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টি করছে। তাদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, কর্মকাণ্ডের ধরণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কাদের পরামর্শে কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে এ সকল আয়োজন করছেন তা ব্যাপক প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। সংস্কৃতি উপদেষ্টা দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মীদের সাথে কোন আলোচনা বা মতবিনিময়ের তাগিদবোধ তো দূরের কথা তাদেরকে সচেতন ভাবে এড়িয়ে চলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যেমনি ভাবে একুশের বইমেলার সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই মেলার তারিখ পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। বহু জীবনের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তবর্তী সরকারের কাছে জনগণ এটা প্রত্যাশা করে না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তথা সরকারের এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, অপরিপক্কতা, অদূরদর্শীতা জনগণের জন্য খুবই দুর্ভাগ্য ও হতাশার বিষয় বটে।

আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। দীর্ঘদিন সরকার ও রাষ্ট্রের নিবর্তনমূলক আইন-কানুন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে সোচ্চার থেকেছি। ফ্যাসিস্ট সরকার উচ্ছেদ আন্দোলনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছি। বইমেলা আয়োজনে নানা ধরনের বিভ্রান্তির কারণে জনমনে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বইমেলার মত মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সৃজনশীল ক্ষেত্রটিকে সংকুচিত করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে সরকারের মধ্যে অবস্থানকারী সেই শক্তি সিদ্ধান্তটি নিয়েছে কি না, যে শক্তি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে গ্রহণ করতে পারে না, জনগণের মাঝে সাম্প্রদায়িক, কূপ-মন্ডূক ও অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোজগৎ সৃষ্টি করতে চায় এবং স্বাধীনতার চেতনা ও আবহমান সংস্কৃতি বিরোধী। এই শক্তিই একুশের বইমেলা নস্যাৎ করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।

অমর একুশে বইমেলা মাতৃভাষা, একুশ-স্বাধীকার-স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনগণের আবেগের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জনগণ আশা করেছিল মহান একুশের সংগ্রামী গোরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও চেতনা সমন্বিত রেখে সরকার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজন করে প্রকাশক, লেখক, পাঠক সর্বোপরী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মনোযোগী হবেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য, মহান একুশের চেতনা ও জনগণের প্রতি ন্যুনতম সম্মান না দেখিয়ে সরকার স্বেচ্চাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অগণতান্ত্রিক শুধু নয় জনগণের প্রতি অবজ্ঞারও প্রকাশ।

তাই একুশ ও একাত্তরের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অমর একুশে প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করি একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শুভবুদ্ধিসম্পন্ন দেশপ্রেমিক মানুষ এই উদ্দ্যেগে শামিল হবেন।

প্রতীকী বইমেলা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০.৩০ টায় শুরু হবে। বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিধ, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। দিনব্যাপী আয়োজনে প্রকাশক ছাড়াও অংশ নেবেন বিশিষ্ট লেখক, কবি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী সহ সর্বস্তরের জনগণ। মেলামঞ্চে থাকবে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নাটক ইত্যাদি পরিবেশনা।

সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ও প্রতীকী বইমেলার সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রচার করে বইমেলাকে প্রাণবন্ত ও সফল করতে এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ ঘটানোসহ সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক লেখক প্রকাশক সাঈদ বারী, অভিনেতা সাংস্কৃতিক সংগঠক খোন্দকার শাহ আলম, সৃজনশীল বই প্রকাশক সমিতি ঢাকার কবি দেলোয়ার হাসান, প্রকাশক নেতা আলমগীর শিকদার লোটন, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, প্রকাশক জাকির হোসেন, কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কবি অভিজিৎ রায় সমাজ অনুশীলন কেন্দ্র, সমাজ চিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল, কবি কৌমুদীনী নার্গিস প্রমুখ।

বার্তা প্রেরক - দেলোয়ার হাসান