
মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রাজধানী নেপিডোর সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সাবেক জান্তা প্রধানের এটি প্রথম মস্কো সফর।
২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের পাশে থাকা কয়েকটি দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ওই অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পশ্চিমা দেশ ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা নির্বাচনের পর গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইংকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট করা হয়।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়া সফরের লক্ষ্য হলো ‘মিয়ানমার ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো’। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি সংস্থা এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে মনে করে।
ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার ও রাশিয়া পাঁচ বছরের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত খুব বেশি প্রকাশ করা হয়নি।
মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে তিনি নেপিডো থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি মিয়ানমার-রাশিয়া অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নেবেন।
এপ্রিলের পর থেকে মিন অং হ্লাইং বেশ কয়েকটি বিদেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত ও প্রতিবেশী থাইল্যান্ড। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন মিয়ানমারকে আবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনতে তিনি এসব সফর করছেন।