
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানাতে নজিরবিহীন আয়োজন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে নামার পর তাকে অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান। তবে শির সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ওয়াশিংটনের বাইরে মেরিল্যান্ডের ওই সামরিক ঘাঁটিতে যান। সেখানে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে করমর্দনের মাধ্যমে স্বাগত জানান তারা।
শিকে স্বাগত জানাতে ছিল জমকালো রাষ্ট্রীয় আয়োজন। প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ লালগালিচা, দুই দেশের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুটি বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে সামরিক ফ্লাইপাস্টও করা হয়।
এর আগে বুধবারই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সাময়িক বাণিজ্যিক সমঝোতা ‘বাসান চুক্তি’র মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে তিনি জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। এর আগে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির সঙ্গে ব্যক্তিগত চা-চক্র এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে।
দুই দিনের এই সফরে বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন, তাইওয়ান ও জলবায়ু ইস্যু এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
শির সম্মানে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ওপেনএআই, অ্যাপল, এক্সএআই, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে একটি অস্বাভাবিক মুহূর্তও দেখা যায়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত চলার সময় সামরিক বিমান উড়ে যাওয়ার শব্দে ট্রাম্পকে দৃশ্যত চমকে উঠতে দেখা যায়। বিপরীতে শি জিনপিং এবং দুই নেতার স্ত্রীদের নির্বিকার থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তবে পরে ট্রাম্পের সহযোগীদের প্রকাশিত অনুষ্ঠানের সম্পাদিত ভিডিওতে ওই দৃশ্যটি রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রতিযোগিতা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় এ প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী সতর্ক করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
তবে ট্রাম্প এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগকে নাকচ করে প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীনই লাভবান হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এআই প্রযুক্তিতে যে দেশ এগিয়ে থাকবে, তারাই সামগ্রিকভাবে এগিয়ে থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বলে আসছেন, এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
শির সফরে আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প চীন সফর করার সময় যে ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছিলেন, শির এবারের সফরেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
চীনা প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসের পরিবর্তে সরাসরি তার বিমানের কাছে গিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প শিকে বিশেষ সম্মান দেখানোর বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বুধবার সকালে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, শি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এসেছেন, তাই তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানানো উচিত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান