
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামীকালই চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করছে বলে জানা গেছে।
এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় বছরে যুক্ত হবে বাড়তি ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তের পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপর নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। পুনর্গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। এ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন।
পরবর্তী অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে আবারও সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে। তবে এসময় পর্যন্ত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আগের কাঠামোতেই বহাল থাকবে। দুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হলেও এসব অতিরিক্ত ভাতা ও সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে একযোগে কার্যকর করা হতে পারে।
জানা গেছে, নবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে।