
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইনশাআল্লাহ, সেই পরিকল্পনার আওতায় জামালপুরেও একটি স্পোর্টস ভিলেজ হবে। পাশাপাশি জামালপুরের অসম্পূর্ণ গ্যালারি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করা হবে এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে জামালপুরের দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। জামালপুর ইতোমধ্যে ক্রীড়াবান্ধব জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, আজকের ম্যাচে দর্শকদের যে ব্যাপক উপস্থিতি, এর ভিডিও আমি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। তিনি দেখে নিশ্চয়ই খুশি হবেন যে, এখনো ফুটবলের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং জামালপুর একটি ক্রীড়াবান্ধব জেলা হিসেবে পরিচিত পেয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের চলমান প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম হবে ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি আমাদের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে ফুটবল মাঠ বা একটি করে খেলার মাঠ হবে। এভাবে আমরা আগামীর স্পোর্টসকে এগিয়ে নিয়ে যাব। নতুন করে স্পোর্টসে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেই জাগরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আগামীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর অনুষ্ঠিত ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মেলান্দহ উপজেলাকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সরিষাবাড়ী উপজেলা।
রোববার বিকেলে বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে সরিষাবাড়ী।
ফাইনাল ঘিরে ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ সময় জেলার পাঁচটি আসনের সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট জেলার সাত উপজেলা ও একটি পৌরসভার আটটি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। কয়েক সপ্তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে রোমাঞ্চকর ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটে।