News update
  • Bangladesh wants to “reset” ties with India: Humaiun Kobir     |     
  • Married at 13, pregnant and starving: Child brides of Yemen     |     
  • Old global order must change as power shifts to emerging economies     |     
  • Two-day ‘Nazrul Dance Festival 2026’ underway at BSA     |     
  • MPO-listed teachers’ eligibility for local polls rests with EC: Shahe Alam     |     

ব্রিকস সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ডাক চীন, রাশিয়া ও ভারতের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2026-09-14, 1:03am

briks_aahbaan_thaamb-a94922171f6d3ccb949bef354f644a881789326224.jpg




চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ব্রিকস নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের বিরল আহ্বানে একমত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের আলোচনা সমাপ্ত করেছেন। এ দিন তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে জোর আলোচনা চালান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জোটের অভ্যন্তরে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।

সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ব্রিকসের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে আমাদের বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে।’

পশ্চিমা শক্তিগুলোর আধিপত্য থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি প্রভাব সৃষ্টির লক্ষে ২০০৯ সালে প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির ফোরাম হিসেবে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে জোটটি তাদের বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংঘাত, বাণিজ্যিক অস্থিরতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের বাস্তবতা বা প্রেক্ষাপট আলাদা হতে পারে, তবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা একত্রে বিকশিত হই এবং মানবজাতির কল্যাণে নিজেদের উজাড় করে দিই।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, ব্রিকস জোট একটি নতুন, আরও ন্যায়সংগত এবং বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, নিয়মহীন এক পৃথিবী যেন ট্রাফিক লাইট ছাড়া কোনো ব্যস্ত মোড়ের মতো; যেখানে বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য অনিবার্য।

সর্বোচ্চ আত্মসংযম

শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিষয়েই আলোকপাত করেছিল।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন বৈঠকে বসেছিলেন, তখন সদস্য রাষ্ট্র ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মে মাসের শেষ নাগাদ (২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর) শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে মতভেদের কারণে তারা কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

তবে আয়োজক দেশ ভারতের জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ উপস্থিত নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করতে সমর্থ হন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’ বিবৃতিতে ব্রিকস দেশগুলো সর্বোচ্চ আত্মসংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ইরান এবং মার্কিন মিত্র ইসরায়েল—উভয় দেশের সাথেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন, পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর ওয়াশিংটন ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের চাপ থাকা সত্ত্বেও, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির দিকে ঝুঁকেছে এবং এভাবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়েছে।

একত্রে সামনে এগিয়ে যাওয়া

ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল প্রতিবেশী ভারতে তার প্রথম সফর। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই বৈরী দেশের সম্পর্কে বরফ গলার অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সফরকে।

তিব্বত সীমান্ত নিয়ে ছয় বছর আগে চীন ও ভারতের মধ্যে এক প্রাণঘাতী সামরিক সংঘর্ষের ঘটনার পর বিমান চলাচল, ভিসা পুনর্নবীকরণ এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে।

নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপ অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাৎকালে শি জিনপিং বলেন, ‘যদিও আমাদের দুটি দেশ অনেক দিক থেকে আলাদা, তবুও আমরা একে অপরের শক্তির পরিপূরক হতে, একে অপরকে সমর্থন দিতে, পারস্পরিক সাফল্য অর্জন করতে এবং একত্রে সামনে এগিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম।’

তবে সীমান্ত নিয়ে মূল যে ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে, তা এখনো অমীমাংসিত। দুই দেশই তাদের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্তে ভারি অস্ত্রসহ সৈন্য মোতায়েন বজায় রেখেছে।

বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উভয় নেতাই সীমান্ত সমস্যার একটি সুষ্ঠু, যুক্তিযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

তবে উভয় দেশের মধ্যে গভীর অনাস্থা এখনো রয়ে গেছে; ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের সম্পর্ককে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

শি জিনপিং বলেন, ‘উভয় পক্ষের উচিত... হাত মিলিয়ে কাজ করা যাতে উচ্চমানের প্রধান আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো যায়, একটি সমান ও টেকসই বৈশ্বিক ব্যবস্থার পক্ষে আলোচনা করা যায় এবং একটি মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন নিশ্চিত করা যায়।’