News update
  • Energy, investment, Rohingya issue to top Bangladesh-Indonesia talks      |     
  • Japan Remains Bangladesh’s Trusted Development Partner: Envoy     |     
  • Dhaka ranks world’s second most polluted city this morning      |     

নেপালে বন্যাদুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো খুবই কঠিন : জাতিসংঘ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-09-03, 6:58pm

nepaal_bnydiurgt_thaamb-ee5229a19bc7750548034d978c0410db1788440297.jpg




নেপালের বিধ্বসংসী বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের কাছে পৌঁছানো এখন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে বন্যাদুর্গতদের কাছে মৌলিক ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার বন্যাকবলিত লোকজনের কাছে পৌঁছাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের বিকল্প হিসেবে পণ্যবাহী ড্রোন ও ভারবাহক (কুলি) ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপাল ও চীন উভয় দেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট হিমালয় পর্বতমালায় মারাত্মক হিমবাহ ধসের পর থেকে সীমান্তের দুই পাড়ে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৪টি দেশের প্রায় ৬০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে।

কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া বলেন, ‘দুর্যোগের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ একেবারেই অবিশ্বাস্য।’  জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা পানি, পয়ঃনিষ্কাশন কিট এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে প্রবেশ করা খুবই, খুবই, খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের স্বজনরা হতাশ হয়ে কোনো তথ্যের আশায় হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। নিজের স্ত্রীকে খুঁজতে নেপালে আসা মার্কিন নাগরিক সঞ্জীব রাই (৫৩) বলেন, ‘আমার খুব অসহায় লাগছে, এতগুলো দিন পার হয়ে গেল।’

হিমবাহ ধসের উৎপত্তিস্থলের কাছের এলাকাগুলো এখনো মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে, যার ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছে দিতে নেপাল সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে জাতিসংঘ। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল আজ বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে কূটনীতিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই বন্যাকে ‘হিমালয়ের সুনামির মতো দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।  শিশির খানাল বলেন, ‘বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মাঠপর্যায়ের চিত্রটি প্রাপ্ত ছবির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। এটি কোনো সাধারণ বন্যা নয়।’

ভয়াবহতার মাত্রা ও জটিলতা

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর পৌডেল ছেত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নেপাল তার কাছে থাকা সমস্ত সম্পদ কাজে লাগিয়েছে, তবে আমরা স্বীকার করি যে, এই দুর্যোগের মাত্রা ও জটিলতা সামলাতে আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহায়তা প্রয়োজন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক।’

লোক বাহাদুর ছেত্রী আবারও বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান, যার মধ্যে রয়েছে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন, অস্থায়ী সেতু, এবং মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টিং কিট। তিনি জানান, ভূকম্পন পর্যবেক্ষণের জন্য নেপালের একটি মোবাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ব্রডব্যান্ড সিসমোমিটারও প্রয়োজন।

অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে নেপালের ২১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য কাজ করছেন। ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালি উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পাহাড়ি ঢল ও বন্যা পার্বত্য জেলাগুলোকে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং রাস্তা, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ধ্বংস করেছে।

এ প্রসঙ্গে লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের সাথে হেলিকপ্টার এবং কার্গো ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছি।’

যত দ্রুত সম্ভব কাজ করতে হবে

জাতিসংঘ নেপালের ভারবাহক ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হওয়ার কথা ভাবছে, যারা পর্বতারোহণ অভিযানগুলোতে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম পার্বত্য পথ ধরে ভারী মালামাল বহনে অভ্যস্ত। লিলা পিটার্স আরও যোগ করেন, ‘আপনাদের দেশের মূল সৌন্দর্য হলো আপনাদের ভারবাহক রয়েছে, এবং জাতিসংঘ যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ পৌঁছে দিতে এই অত্যন্ত সাধারণ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারে।’

বিপর্যয়ের পরিধি বিবেচনা করে সহায়তার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকা অনিবার্য বলে সতর্ক করেন লিলা পিটার্স। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের মাত্রা এতোটাই বেশি যে সব জায়গায় কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে।’

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা ১,২৫২ এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৪,২১৬। চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে সামগ্রিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৭৩ জনে এবং অন্তত ৪,৭৫৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।