News update
  • ‘Violence will only defer a problem’: UN Assembly President     |     
  • Ninth Pay Scale Gazette Issued, Higher Salaries From July     |     
  • 11-Party Alliance Begins Dhaka-Rangpur Long March     |     
  • Iran claims it hit an oil tanker in the Strait of Hormuz     |     
  • Dhaka Air Quality Unhealthy for Sensitive Groups Saturday     |     

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মিডিয়া 2026-09-19, 1:51pm

afp_20260604_b62n43a_v1_highres_uspoliticstrump-b988e16ab13e6e29cf6a88bae4aa45871789804267.jpg

৪ জুন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন শুনছেন। ছবি: এএফপি



সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ‘অবিলম্বে’ এসব সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তার প্রশাসন নিয়ে নিয়মিত ‘মিথ্যা ও কাল্পনিক’ খবর প্রকাশ বা প্রচার করে। তবে কোন প্রতিবেদন বা সংবাদের কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি। খবর বিবিসির। 

পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এটি ‘খুবই সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা’। তবে কীভাবে নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে বা এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ বন্ধ করা হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

ঘোষণার পরপরই সিএনএন এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। নেটওয়ার্কটি এক বিবৃতিতে এটিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ‘অবৈধ হামলা’ বলে উল্লেখ করে।

সিএনএন বলেছে, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সরকারি বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

পলিটিকোও এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ড নিয়ে ন্যায্যভাবে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াই করবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এমএস নাও, যা আগে এমএসএনবিসি নামে পরিচিত ছিল, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, ‘অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও’ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে ‘ফেক নিউজ’ বলে উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকি হেইনরিখ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাংবাদিককে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সংগঠনটি তাদের পাশে রয়েছে।

জ্যাকি হেইনরিখ বলেন, বিষয়টি শুধু সাংবাদিকদের অধিকারের নয়; মার্কিন জনগণেরও দেশের প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড, নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। গত কয়েক বছরের সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

ট্রাম্প বলেন, এটি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ঘটনা। একসময় আপনি এতে বিরক্ত হয়ে যান। একই সঙ্গে আরও কিছু সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তবে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আদালতে টিকে থাকবে কি না, তা পরবর্তী বিষয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের একাধিকবার বিরোধ হয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। এর আগে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই পুল পরিচালনায় ভূমিকা রাখত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

একই মাসে ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নাম ব্যবহারের কারণে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকদের ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত প্রবেশাধিকার থাকা স্থান থেকে দূরে রাখে ট্রাম্প প্রশাসন। এপি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে, যা এখনও চলমান।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধ অবশ্য ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও দেখা গেছে। সে সময় সিএনএনের প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল। পরে সিএনএনের করা মামলার পর তার প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার সমালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট বলেছে, আদালত ইতোমধ্যে এ ধরনের বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিকবার রায় দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জামিল জাফর বলেন, প্রেস পুলে কোনো সংবাদমাধ্যমকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা সংবাদ প্রকাশের কারণে বাদ দেওয়া হলে তা অসাংবিধানিক হবে।

মিডিয়ার জন্য আইনি সহায়তা দেওয়া রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসও বলেছে, আদালতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংগঠনটির মতে, হোয়াইট হাউস যখন কিছু সাংবাদিককে প্রবেশের সুযোগ দেয়, তখন তাদের সংবাদ প্রকাশের ধরন পছন্দ না হওয়ার কারণে অন্য সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করতে পারে না।

ট্রাম্প এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসিসহ বিভিন্ন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলোকে কোটি কোটি ডলারের সমঝোতায় যেতে হয়েছে। বিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলাটি এখনও চলমান।