
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। সামনে আরও বৃষ্টি হলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোজাম্বিক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে।
মোজাম্বিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি হ্রাস ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে বজ্রপাতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে, পানিতে ডুবে, অবকাঠামো ধসে এবং কলেরার মতো রোগে ঘটেছে।।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, মোজাম্বিকে এই দুর্যোগে দুই লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলানো দরিদ্র এই দেশটির জন্য এবারের বন্যা নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া মাদাগাস্কার, মালাউই ও জাম্বিয়াতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে ছাদ বা গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধার করা করছে। সীমান্ত এলাকায় একটি চেকপোস্টে আটকে পড়া পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদেরও উদ্ধার করতে দেখা গেছে।
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ওই অঞ্চলে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
লিম্পোপো প্রদেশের প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা বলেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক বাড়ি বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। পাশের এমপুমালাঙ্গা প্রদেশেও সড়ক ও সেতুর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম জানিয়েছে, মোজাম্বিকে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে ধান ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্য রয়েছে। এতে হাজারো ক্ষুদ্র কৃষক ও তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। কখনো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়, কখনো তীব্র খরা আর এবার ভয়াবহ বন্যা। এবারের দুর্যোগ সেই সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।