
রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের এলাকায় ইউক্রেন ‘নজিরবিহীন’ ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। শহরে চলমান অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ দিনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানিয়েছেন, হামলার সময় ১৪০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানান, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। তিনি এটিকে রুশ হামলার ‘ন্যায্য জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। খবর বিবিসির।
ইউক্রেনের দাবি, তাদের ড্রোন প্রায় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ক্রনস্টাডে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে কিয়েভ।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন লাগে এবং কিছু ভবন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) রাতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সকাল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৩৩৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, কৃষ্ণসাগরে মানবিক মিশনে থাকা দুটি বেসামরিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার জাহাজে রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে, যাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এই হামলার একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।
অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করার সময় এসেছে, কিন্তু রাশিয়া এখনও সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়। তিনি শিগগিরই যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।