News update
  • Mecca Pact Puts Bangladesh’s Foreign Policy to New Test     |     
  • Remittance reaches $2.34 billion in first 24 days of August     |     
  • BSF men flee leaving behind 2 shotguns, walkie-talkie      |     
  • Bhutan King makes brief stopover in Dhaka, meets President     |     
  • Eid-e-Miladunnabi being observed today     |     

দস্যুর ভয়ে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীববৈচিত্র 2026-02-19, 5:57pm

fsrwerwe-44f5cece3c8a8ac4755729441e053d271771502235.jpg




বনদস্যু আতঙ্কে বাগেরহাটের দুবলারচরের দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।

বুধবার দুপুরে দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কামাল উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।

মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তখন থেকে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল, ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সাগরে গেলে ‘ডাকাত।’

মোতাসিম ফরাজী বলেন, দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুই দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে আমাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।