
রাজধানী ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরীতে পরিণত করতে সবুজায়নকে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, কৃষিবিদ ও বিশিষ্টজনেরা।শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘গ্রীনওয়াচ ঢাকা’ ও ‘ঢাকার শেকড়’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকার টেকসই উন্নয়নে সবুজায়ন আন্দোলন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, নগরীর প্রতিটি খালি জায়গা ও সড়কদ্বীপে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে নার্সারি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই শহরকে বাঁচাতে হলে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সিটি কর্পোরেশন প্রতি শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মহানগরীতে বৃক্ষরোপণ ও ছাদবাগানে সফল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শুধু দেশের রাজধানী নয়, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।
সেমিনারের মুখ্য আলোচক বিশিষ্ট কৃষিবিদ ও হর্টিকালচার বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, “ঢাকার তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ছাদবাগান, ব্যালকনি বাগান এবং উলম্ব সবুজায়ন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হর্টিকালচার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর প্রতিটি ভবনকে অক্সিজেনের উৎসে পরিণত করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, “গণমাধ্যম সবসময় পরিবেশ ও প্রকৃতির পক্ষে সোচ্চার। ঢাকার সবুজায়ন আন্দোলনকে প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”সামাজিক সংগঠন ‘ঢাকার শেকড়’-এর ট্রাস্টি হাজী মোতালেব মাশরেকী ঢাকার ঐতিহ্য, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গ্রীনওয়াচ ঢাকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির নির্বাহী সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আজাদ।সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, “সবুজায়ন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি ঢাকার অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম শর্ত। ‘গ্রীনওয়াচ ঢাকা’ ও ‘ঢাকার শেকড়’ যে উদ্যোগ শুরু করেছে, তা কেবল আলোচনা বা কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। টেকসই ঢাকা গড়তে আমরা ধারাবাহিকভাবে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাব।”
সেমিনারের মুক্ত আলোচনায় পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রাজধানীর পরিবেশগত অবক্ষয় রোধ, উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।