News update
  • PM Urges New BCS Officers to Serve People with Honesty     |     
  • EC Plans First-Phase Elections in 1,050 Union Parishads     |     
  • Rohingya crisis now a security concern for Bangladesh: Shama     |     
  • Hasina Is a Convict, Legal Steps Underway to Bring Her Back     |     
  • Nearly 300 families perish in road crashes in 6 years 10 months: RSF     |     

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈরিতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2022-12-28, 8:52am




যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন বিশ্বব্যাপী নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে আর এর প্রভাবে, অর্থনৈতিক নীতি, দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিরোধ এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

গত ১ জানুয়ারি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশীপ (আরসিইপি) চুক্তি কার্যকর হয়েছে। আরসিইপি হল এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৫টি দেশগুলির মধ্যে চীনের নেতৃত্বাধীন একটি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি, যার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) ভুক্ত ১০টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।

গত মাসে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত ২৫তম চীন-আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ২০২২ সালের প্রথম ১০ মাসে চীন এবং আসিয়ানের মধ্যে ৭৯,৮৪০ কোটি ডলারের বাণিজ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

লি তার বক্তৃতায় বলেন, "আমরা রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশীপ (আরসিইপি) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের জন্য একসাথে কাজ করেছি, তাই বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আমাদের এই উন্মুক্ত এবং আন্তঃসংযুক্ত উন্নয়নকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে যাচ্ছি।"

যাইহোক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুর্দান্ত শক্তি প্রতিযোগিতা বিষয়ে অধ্যয়নরত অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) ডক্টরেট প্রার্থী হান্টার মার্স্টনের মতে, আরসিইপি আসিয়ানে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছে কিনা, তা এত তাড়াতাড়ি নির্ধারণ করা খুব মুশকিল।

তিনি ভিওএ ম্যান্ডারিনকে বলেছেন, "২০২২ সালে [প্রথম ১০ মাসে] আসিয়ান-চীন বাণিজ্য রেকর্ড যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা দেখার মতো বিষয়, তবে এটির বাণিজ্য বৃদ্ধি প্রধানত আরসিইপি থেকে আসবে কিনা, তা বলা কঠিন। আরসিইপি কেবল বাধাগুলি কমায় এবং বাণিজ্যকে আরও দক্ষ করে তোলে, কিন্তু এখন পর্যন্ত, এটি যে অবিলম্বে এবং স্পষ্ট সুবিধা নিয়ে এসেছে, তা বলা বেশ কঠিন।"

অন্যদিকে, আরসিইপি-কে মোকাবেলা করার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মে মাসে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) চালু করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনর্নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং বেইজিংয়ের আরসিইপি-এর বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটন-নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানসহ ১৪টি দেশের সমন্বয়ে আইপিইএফ গঠিত হয়।

তবে, তাইওয়ানের ন্যাশনাল সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়ান চেন, আইপিইএফ শীঘ্রই চীনের উপর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক নির্ভরতার প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি ভিওএ ম্যান্ডারিনকে বলেন, "আমি মনে করি, স্বল্পমেয়াদে এটি অসম্ভব। আইপিইএফের খুব কঠোর প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন নেই, তাই অংশগ্রহণকারী দেশগুলি আসলে নির্ধারণ করতে পারে যে, তারা কতটা এর সাথে জড়িত হতে চায়। এই ধরনের শিথিল প্রয়োজনীয়তার সাথে, আপনি যে লক্ষ্যগুলি অর্জন করতে চান, তা অর্জন করা কঠিন হতে পারে।"

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিনিয়র ফেলো জোশ কুরলান্টজিক একমত নন যে, কেবল চীনের আরসিইপির প্রতিক্রিয়ায় বাইডেনের আইপিইএফ গঠিত হয়।

কুরলান্টজিক ভিওএ ম্যান্ডারিনকে বলেছেন, “আমি মনে করি না যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল চীনের প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে”।

আইপিইএফ-এর অনেক বিশদ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে এএনইউ-এর মার্স্টন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০২৩ সালে এই অর্থনৈতিক প্রকল্পটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ঘোষণা করবেন।

মার্স্টন বলেন, "যদিও আইপিইএফ বাস্তবের চেয়ে বেশি প্রতীকী, তদুপরি আমি মনে করি ১০টি আসিয়ান দেশের মধ্যে সাতটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা যোগদানের জন্য সম্মত হয়েছে। তাতে বোঝা যায় , এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এখনও আকর্ষণীয়।"

২০২২ আসিয়ান বিনিয়োগ রিপোর্ট অনুসারে, ওয়াশিংটন এখনও ওই অঞ্চলে বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিচ্ছে — ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ৪১% বেড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার হয়েছে — কিন্তু বেইজিংয়ের বিনিয়োগ ৯৬% বেড়ে যাবার পরও দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার।

মার্স্টন আরও বলেছেন, "যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারপরও আমি মনে করি, আসিয়ান একটি বহুমুখী প্রতিযোগিতার অঞ্চল হয়ে উঠছে।"

বিশ্লেষকরা ভিওএ ম্যান্ডারিনকে বলেছেন, এই বছর ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও দেখা দিয়েছে।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল চেংচি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ইয়াং-এর মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ উদ্বিগ্ন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির আগস্টে তাইওয়ান সফর, চীনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ইয়াং ভিওএ ম্যান্ডারিন সার্ভিসকে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন, তাইওয়ান সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত, এই বিষয়গুলিকে আলাদা করা কঠিন। এই বছর দক্ষিণ চীন সাগরে কোনো বড় ধরনের অ্যাকশন হয়নি। কিছুটা হলেও, এটি এখনও দুটি বড় বাইরের শক্তির অধীন। একটি হল যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এবং অন্যটি হল মহামারীর প্রভাব।"

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের চলমান সামরিকীকরণের পাশাপাশি অত্যন্ত লোভনীয় উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপগুলিতে চীনের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন কুরলান্টজিক। তবুও, ২০২৩ সালের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তিনি বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে সংঘাত সম্ভবত সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তথ্য সূত্র ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা।