News update
  • Dhaka ranks 5th among world’s most polluted cities on Friday     |     
  • Manpower export jumps 11 pc in Sept, Malaysia market still closed     |     
  • Trump’s Economic Approval Hits New Low as Prices Stay High     |     
  • Exports up over 6% to $13.1bn in Q1 of current fiscal     |     
  • Declaration on Sea Level Rise Draws Mixed Global Response     |     

ট্রাম্পের 'গোল্ড কার্ড' ভিসা কী, সুযোগ নাকি বিতর্ক?

বিবিসি নিউজ বাংলা কৌশলগত 2025-03-01, 6:37pm

rtewtwetw-104f576581c65cc57f24df3517cd92121740832648.jpg




যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'গোল্ড কার্ড' ভিসা নামে নতুন একটি প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাঁচ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ ডলার খরচ করে সম্পদশালী বিদেশি নাগরিকরা এই ভিসা পাবেন এবং তা স্থায়ীভাবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি করবে।

"তারা ধনী হবে ও সফল হবে। তারা প্রচুর টাকা খরচ করবে, প্রচুর কর দেবে, আর অনেক মানুষকে চাকরি দেবে। আমরা মনে করি এটি অত্যন্ত সফল হবে," গত মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক বলেছেন, প্রস্তাবিত নতুন "গোল্ড কার্ড" বর্তমান 'ইবি-ফাইভ' বিনিয়োগ ভিসা প্রকল্পের পরিবর্তে চালু করা হবে। ইবি-ফাইভ ভিসা সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেয়া হয়।

ট্রাম্প কী প্রস্তাব দিচ্ছেন?

নতুন ভিসার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো কোনো শর্ত উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তিনি কেবল বলেছেন, "এটি ধনী ব্যক্তিদের জন্য।"

ইবি-ফাইভ ভিসা একটা সীমিত সংখ্যায় দেয়া হয়। তবে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছেন যে সরকার এক কোটি 'গোল্ড কার্ড' বিক্রি করে দেশটির বাজেট ঘাটতি কমাতে পারে।

এটি "দারুণ হতে পারে, হয়তো অসাধারণ হবে," বলছিলেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, "এটি ধনী বা মহা-প্রতিভাবান ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের পথ তৈরি করবে। ধনী ব্যক্তিরা খরচ করে প্রতিভাবানদের জন্য প্রবেশের উপায় তৈরি করবে। কোম্পানিগুলোও তাদের কর্মীদের জন্য এই ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবে যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের একটা বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করবে।"

সংবাদকর্মীরা যখন জানতে চান ধনী রাশিয়ান নাগরিকরা এই ভিসার জন্য যোগ্য কিনা, তখন ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, সম্ভবত। আমি এমন কিছু রাশিয়ান অলিগার্ককে (সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান শ্রেণি) চিনি, যারা খুব ভালো মানুষ।"

তবে লাটনিক জানান, আবেদনকারীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করা হবে যে তারা "বিশ্বমানের নাগরিক"।

তবে এই 'গোল্ড কার্ড' পাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পেতে কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গ্রিন কার্ডধারীরা—যেমন বর্তমান ইবি-ফাইভ ভিসা সুবিধার আওতায় যারা আছেন, তাদের সাধারণত নাগরিকত্বের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ও স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করতে হয়।

মার্কিন কংগ্রেস নাগরিকত্বের যোগ্যতা নির্ধারণ করে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে 'গোল্ড কার্ড' চালু করতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে না।

নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে, বলেছেন তিনি।

ইবি-ফাইভ প্রকল্পের পরিবর্তন কেন?

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানান, ৩৫ বছর পুরনো ইবি-ফাইভ বিনিয়োগকারী ভিসা স্কিমের পরিবর্তে আসছে ট্রাম্প ঘোষিত 'গোল্ড কার্ড'।

মি. লাটনিকের মতে, "ইবি-ফাইভ প্রোগ্রামটি ছিল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং প্রতারণার একটি জায়গা। এটি কম খরচে গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছিল। তাই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই হাস্যকর ইবি-ফাইভ প্রোগ্রামের পরিবর্তে আমরা এটি বন্ধ করে দেব।"

১৯৯০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইবি-ফাইভ প্রকল্প চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন ব্যবসায় প্রায় দশ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জন করে।

এই প্রকল্পের আওতায় বিনিয়োগকারীরা সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিন কার্ড পান, যা ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি করে।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

প্রতি বছর ইবি-ফাইভ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়, এর মধ্যে তিন হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে বেকারত্বের মাত্রা বেশি রয়েছে এমন এলাকাগুলোয় বিনিয়োগকারীদের জন্য।

মার্কিন অভিবাসন সংস্থার মতে এর মূল উদ্দেশ্য হলো, "বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা"।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে প্রায় আট হাজার ব্যক্তি এই বিনিয়োগ ভিসা পেয়েছেন।

এছাড়াও, ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস জানায় যে অন্যান্য অভিবাসী ভিসার তুলনায় ইবি-ফাইভ ভিসার মাধ্যমে 'প্রতারণার বাড়তি ঝুঁকি' রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় "এর ঝুঁকির জায়গা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের টাকা বৈধভাবে পাওয়া কিনা সে দিকটা যাচাই করার অসুবিধা এবং এই ভিসার মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা। এটি কিছু লোককে বিনিয়োগকারী হিসেবে সুযোগ নেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে এবং ভিসাটিকে পক্ষপাতিত্ব তৈরির ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।"

অন্যান্য দেশে এই ধরনের ভিসা কীভাবে কাজ করে?

ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে 'গোল্ডেন ভিসা' এবং 'গোল্ডেন পাসপোর্ট' বেশ জনপ্রিয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ধরনের স্কিম রয়েছে।

'গোল্ডেন ভিসা'র মাধ্যমে সম্পদশালী বিদেশিরা বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিনিময়ে অন্য দেশে বসবাস ও কাজের সুযোগ পান।

কিছু ক্যারিবীয় দেশে এমন 'গোল্ডেন পাসপোর্ট' বেশ জনপ্রিয় যার মধ্য দিয়ে ধনী ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ নাগরিকত্ব অর্জন করে যার মধ্যে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ ছাড়া ভোট দেয়ার অধিকারও থাকে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানায়, বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ ধনী ব্যক্তিদের জন্য 'গোল্ডেন ভিসা' সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, গ্রিস, মাল্টা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইতালি।

তবে, এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো ক্রমাগত সমালোচনা ও নজরদারির মুখে পড়ছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) ২০২৩ সালে এক প্রতিবেদনে জানায়, এই ভিসাগুলো "বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে; তবে অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যারা বিচার এড়াতে চায় এবং কোটি কোটি ডলার অর্থ পাচার করে তাদের জন্যও আকর্ষণীয়।"

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইউরোপের এই ভিসা ও পাসপোর্ট প্রকল্পগুলো "বাস্তব বিনিয়োগ বা অভিবাসনের জন্য নয়, বরং দুর্নীতির স্বার্থ রক্ষার জন্য"।

এ কারণে ইউরোপের অনেক দেশ এই প্রোগ্রাম বাতিল করতে শুরু করেছে।

২০২২ সালে ইউরোপীয় নাগরিক স্বাধীনতা, বিচার ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি 'গোল্ডেন পাসপোর্ট' নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দেয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসামুক্ত সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর জন্য এই প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানায়।

এমন উদ্বেগের ফলে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, গ্রিসসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ তাদের 'গোল্ডেন ভিসা' কর্মসূচি বাতিল করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, স্পেন ২০১৩ সালে চালু হওয়া 'গোল্ডেন ভিসা' বাতিল করেছে, যেখানে পাঁচ লাখ ইউরো (৫২ লাখ পাঁচ হাজার ডলার) মূল্যের সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার সুযোগ ছিল। যদিও এতে আবেদনের শেষ সুযোগ তেসরা এপ্রিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত বছর বলেছিলেন, তার সরকারের উদ্দেশ্য হলো "নিশ্চিত করা যে আবাসন হলো একটি অধিকার, শুধু ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয় নয়"।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইউ গোল্ডেন ভিসা নিয়ে একটি গবেষণাতেও এই প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে এই ধরনের ভিসা প্রকল্পগুলো বৈদেশিক বিনিয়োগের খুব ছোট অংশ এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব 'অতি সামান্য'।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক - অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের একটি তদন্তে আরও জানা যায়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা লিবিয়ার এক সাবেক কর্নেল এবং তুরস্কে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যবসায়ী এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ডোমিনিকান পাসপোর্ট কিনতে সক্ষম হন।