
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।
সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।
মোনামি ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এর আগে গত রোববার (১০ মে) পদত্যাগ করেন ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ। তার পদত্যাগের পরপরই সহকারী প্রক্টর মোনামি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে।
ফেসবুকে দেয়া পোস্টের ক্যাপশনে মোনামি লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম। জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এখানেই।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘শিক্ষকতা পেশার ৭ বছরে (২০২৪) কখনো এক মুহূর্তের জন্য প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালোনের ইচ্ছা আমার হয়নি। বিইউপি, জগন্নাথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কখনো ভাবিনি আমি প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব কখনো নেবো। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট যখন প্রক্টর স্যার আমাকে কল দিয়ে বললেন, তিনি আমাকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে চান, আমি আসলেই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এত বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি! একে তো নতুন বাংলাদেশ। অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার ওপর আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই-স্যার, আমি মানা করবো!’
মোনামি লিখেন, গত ২টি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছে, কিভাবে একজন প্রক্টরকে অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে টেকল দিতে হয় আর সর্বোপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।
‘আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করবো না। আমি জানিও না ট বি ট্রু। আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে’, যোগ করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
তিনি লিখেন, ‘জুলাই এবং জুলাই পরবর্তী এমন সময় আর সিচুয়েশন আদোও এই দেশে আর আসবে কিনা আমি জানি না। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, প্রবাব্লি, করবেও নাহ।’
তিনি আরও লিখেন, যাইহোক, আমার টিমের সঙ্গে এবং আমাদের প্রোক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করতে পারা সত্যিই এক পরম সম্মানের বিষয় ছিল। নতুন প্রোক্টর ও তার টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার জন্য তাদের প্রতি রইল শুভকামনা।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।