News update
  • 8 Killed in Ashulia Garment Factory Fire      |     
  • Apratim Murder Suspects Confessed, Says Home Minister     |     
  • Dhaka's air decorded unhealthy for sensitive groups Sunday morning     |     
  • Meet Earth’s newest wild cat species, the first named in over a century     |     
  • Bus torched in Mymensingh early Sunday     |     

বরিশালের আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, আলামত সংগ্রহ পুলিশের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-08-13, 6:46am

brishaal_0-8a2d92a159dda9137ee95d3a669bf2701786581996.jpg




বরিশালের আদালত চত্বরে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ। ফুটেজে বিস্ফোরণের আগে আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে একজনকে বের হতে এবং আরেকজনকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ফটকের পাশেও কয়েকজন ছিলেন। বিস্ফোরণের পর তারা দ্রুত সরে যান। তবে বাইরে থেকে কেউ কোনো বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে কি না, ফুটেজে তা স্পষ্ট নয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে আদালতের প্রবেশপথের বাম পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরিত বস্তুটি ককটেল সদৃশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, সিসিটিভিতে বাইরে থেকে কোনো বস্তু ছুড়ে মারার বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তবে বিস্ফোরণের ধরন, উদ্ধার করা আলামত ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এটিকে ককটেল সদৃশ মনে হচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের আগে ঘটনাস্থলের কাছে একজন বয়স্ক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুটা দূরে কালো বোরকা পরা কয়েকজন নারী ও আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। এ সময় লাল শপিং ব্যাগ হাতে এক ব্যক্তি আদালতের ফটক দিয়ে বেরিয়ে যান। একই সময়ে হাতে কাগজ নিয়ে এক তরুণ আদালত চত্বরে ঢোকেন। এরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ব্যক্তিরা আতঙ্কে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। তবে কে বা কোথা থেকে বিস্ফোরকটি সেখানে রেখেছে বা নিক্ষেপ করেছে, ফুটেজ দেখে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার জানান, বিস্ফোরণে তেমন শব্দও হয়নি। ফুটেজটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

ক্রাইম সিন ইনচার্জ খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর এগুলো থেকে বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

সিআইডির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো আলামত মেলেনি। তবে ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া বিস্ফোরণে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, ‘পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এটি করা হতে পারে।’

ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশ। এতে নিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রধান ফটক, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তু সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত- তা ফরেনসিক প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।