
বর্তমান সময়ের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে ভিতর থেকে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।
সম্প্রতি চিকিৎসক সৌরভ শেঠী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন তিনটি সবজির কথা জানিয়েছেন, যা নিয়মিত ডায়েটে রাখলে ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ সহায়তা পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসক শেঠীর মতে, ব্রকোলি, বাঁধাকপি এবং ফুলকপি—এই তিন সবজি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এই সবজিগুলোতে ‘সালফোরাফেন’ নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যার মধ্যে শক্তিশালী ক্যানসার-রোধী গুণাগুণ রয়েছে। বিশেষ করে স্তন এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এই যৌগটি দারুণ ভূমিকা পালন করে।
তবে ক্রুসিফেরাস গোত্রের এই সবজিগুলো অনেকের ক্ষেত্রেই গ্যাস বা হজমের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, রান্নার ক্ষেত্রে সামান্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই সমস্যা এড়িয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করা সম্ভব।
হজমের সমস্যা এড়াতে তিনি কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। ফুলকপি বা এই ধরনের সবজি রান্নার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে কেটে রাখা উচিত। এতে সবজিতে থাকা এনজাইম বা উৎসেচকগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে সক্রিয় হয় এবং রান্নার পর গ্যাস হওয়ার প্রবণতা কমে।
এছাড়া রান্নার আগে সবজিটি হালকা ভাপিয়ে নিয়ে পানি ফেলে দেওয়া এবং তারপর সামান্য তেলে ভেজে রান্না করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা রোধ করতে রান্নায় জিরা, গুয়ামুরি (মৌরি), হিং, ধনে বা আদার মতো ভেষজ মশলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এগুলো শুধু স্বাদই বাড়ায় না, বরং হজম প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি যে দিন এই সবজিগুলো খাওয়া হবে, সে দিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। চাইলে সাধারণ পানির পরিবর্তে গুয়ামুরি ভেজানো পানি বা ভেষজ চাও খাওয়া যেতে পারে।
প্রোবায়োটিক খাবার হিসেবে দই হজমে অত্যন্ত সহায়ক। তাই এই সবজিগুলো রান্নার সময় দই ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা খাওয়ার শেষে এক বাটি দই খাওয়া যেতে পারে
তেল-মশলাযুক্ত ভাজাভুজি খাবার কমিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই পুষ্টিকর সবজিগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে ক্যানসারের মতো রোগ থেকে শরীরকে অনেকটা দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।