পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সরকারি পদে থাকার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে সেদেশের নির্বাচন কমিশন।
বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি করার দায়ে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন মি. খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিদেশী উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে যেসব উপহার পেয়েছিলেন, সেগুলোর কথিত বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি ।
ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের রুলিং চেয়েছিল।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ট্রাইবুনাল এক লিখিত রুলিংএ সংবিধানের ৬৩(১)(পি) ধারা অনুযায়ী মি. খানকে পার্লামেন্ট বা প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হবার অযোগ্য বলে ঘোষণা করে।
রিপোর্টে আইনী বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, কমিশনের এ রুলিং-এর অর্থ হচ্ছে যে মি. খান বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ পর্যন্ত এর সদস্য হবার অযোগ্য থাকবেন। পার্লামেন্টে তার আসনটিতে উপ-নির্বাচন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা আজীবনের জন্য নাকি সীমিত সময়ের - তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ইমরান খান বলছেন, এ বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৭০ বছর বয়স্ক মি. খান গত মাসে স্বীকার করেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পাওয়া অন্তত চারটি উপহার বিক্রি করেছিলেন।
তার সহযোগীরা বলছেন, তারা এ সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন। তারা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার জন্য মি. খানের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি বিক্ষোভে ইমরান খান-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এ বছর এপ্রিল মাসে পার্লামেন্টে এক অনাস্থা ভোটে হেরে যাবার পর ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন। তথ্য সূত্র বিবিসি বাংলা।