News update
  • 14 lakh Yaba pills seized in Teknaf; two detained     |     
  • UNGA can rebuild trust, good faith now missing from geopolitics: Guterres     |     
  • Parliament scraps controversial bank ownership provision     |     
  • Smokescreen in India over Ganga Treaty extension Alarming: Farakka Committee      |     
  • What 1.5°C Overshoot Means for Small Islands     |     

অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জ্বালানী 2026-09-10, 5:59am

aprishodhit_tel_inaar_1_1-1a32bb23ebc464b8a7729654b52b18141788998391.jpg




মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত জুলাই মাসের পর এই প্রথম অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল। এরফলে আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থায় মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শেয়ার বাজারে দরপতন ঘটিয়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ ১০১.৫৫ ডলারে পৌঁছায়। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়তো সুদের হার বাড়িয়ে দেবে।

ওয়াল স্ট্রিটে বুধবার লেনদেনের শেষভাগে ডাও জোন্স ০.৮ শতাংশ পড়ে যায়। পাশাপাশি আটলান্টিকের ওপারে ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে ধস নামে; প্যারিসে দিনের লেনদেন শেষ হয় প্রায় দুই শতাংশ পতন দিয়ে। শীতের আগে মজুত পূর্ণ করার জন্য দেশগুলোর লড়াইয়ের মধ্যে ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেশ বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘন্টায় ৮০ ইউরো ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ।

এ প্রসঙ্গে এক্সটিবি ট্রেডিং গ্রুপের গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকস যুক্তি দিয়ে বলেন, অপরিশোধিত তেলের জন্য ১০০ ডলারের কোঠাটি বাজারের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক স্তর যা ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল চুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারেরও ওপরে উঠে গেছে। ব্রিফিং ডট কমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও'হেয়ার এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত প্রতিশোধমূলক হামলাকে দায়ী করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৫.৯৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াচ্ছে।

সবার নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে, যা আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ ঋণের সুদের হার বাড়াবে কি না—সেই সংক্রান্ত পূর্বাভাস নিশ্চিত করতে পারে।

ফরেক্স ডট কমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশি খারাপ (বেশি) হয়, তবে তা ঝঁকিপূর্ণ সম্পদগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এটি এফওএমসি-র ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করবে।

অবশ্য তার আগেই, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোজোনের সুদের হার বাড়াবে বলে ব্যাপকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

প্যাট্রিক ও'হেয়ার বলেন, তেলের দামের এই ধাক্কা স্বাভাবিকভাবেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এবং আগামী সপ্তাহে ফেডের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিনিয়োগকারীরা বাড়তি রিটার্নের দাবি জানানোয় এসব মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগ সরকারি বন্ডের লভ্যাংশকে ওপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লভ্যাংশ বুধবার বেড়ে ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে.

যুদ্ধের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে বাড়তে থাকা ‘শুল্ক লড়াই’ নিয়েও চিন্তিত। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তরের প্রতিবেশী দেশটি থেকে অ্যালকোহল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে বুধবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান, যা দুই শত্রুকে যুদ্ধের আরও গভীরে টেনে নিচ্ছে।

ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী ২০টি মার্কিন জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে।

ইরান আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, হরমুজের বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ এই মূল জলপথের বাইরে অনেক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং আরব সাগরের মতো দূরবর্তী অঞ্চলের জাহাজের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।

যুদ্ধের খবর ছাড়া অন্য বিষয়ের মধ্যে পরে সবার মনোযোগ থাকবে অ্যাপলের ওপর, যা স্যামসংয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করতে জনপ্রিয় ফোল্ডেবল আইফোনসহ একগুচ্ছ নতুন ও হালনাগাদ ডিভাইস উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া অ্যাপলের বর্ষীয়ান কর্মকর্তা ও নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে কোম্পানির প্রথম বড় কোনো ইভেন্ট। তবে বুধবার নিউইয়র্কে অ্যাপলের শেয়ারের দর ১.২ শতাংশ কমে গেছে।