
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ ও বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত পৃথক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার (ভাইরাল) ঘটনায় মাত্র একদিনের ব্যবধানে দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রত্যাহার করা হয় এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ এএসআই অতনু বণিকের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাধবপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এর আগের দিন এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে বলতে শোনা যায়—আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়া লাগবে।
এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর তাৎক্ষণিকভাবে ইলিয়াস হোসেনকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) তারেক মাহমুদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দুটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই থানার দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআইয়ের বিরুদ্ধে পর পর এমন চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও প্রকাশ্যে ঘুষের সাফাই গাওয়ার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড়, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।