
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। সুযোগ ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনালে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সোনালি ট্রফি হাতছাড়া করেছে লিওনেল মেসিরা।
এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের বেদনা সঙ্গী করেই দেশের মাটিতে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ফাইনালের রেশ কাটতে না কাটতেই নিউইয়র্ক থেকে বুয়েনস আইরেসের উদ্দেশ্যে রওনা হয় আলবিসেলেস্তেরা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিনিস্ত্রো পিস্তোরিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফুটবলারদের বহনকারী বিমানটি।
তবে পুরো দল একসঙ্গে দেশে ফেরেনি। স্কোয়াডের ১৬ জন ফুটবলার আর্জেন্টিনা পৌঁছেছেন। বাকি ১০ জন ফুটবলার আমেরিকা থেকেই সরাসরি নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে বা ছুটি কাটাতে অন্যান্য দেশে চলে গেছেন। এ ছাড়া লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পলের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাবে খেলা তারকারাও আমেরিকা থেকেই নিজেদের গন্তব্যে পাড়ি জমান।
বাকি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের অনেকটা রাজকীয়ভাবেই বরণ করে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়েতে ‘গ্রেনেডিয়ার রেজিমেন্ট’-এর সদস্যরা তাদের বিখ্যাত গান ‘মুচাচোস’-এর সুরে বরণ করে নেন দলকে। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ছাদখোলা বাসে করে দলটিকে নেওয়া হয় ‘লিওনেল আন্দ্রেস মেসি’ ট্রেনিং সেন্টারে।
এসময় রাস্তার দুপাশে জড়ো হওয়া হাজার হাজার ভক্ত প্ল্যাকার্ড, পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ। ফাইনাল হারলেও দেশের বীরদের বরণ করে নিতে কোনো কমতি রাখেনি সমর্থকরা।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জমকালো উদযাপনের পরিকল্পনা ছিল না, তবুও ভালোবাসার টানে ট্রেনিং সেন্টারের বাইরে উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়। ট্রফি হাতছাড়া হলেও এই দলটি যেভাবে দেশের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে আমরা দেশের মানুষের সমর্থন অনুভব করেছি। এমন একটি জাতির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা গর্বিত, যারা কখনো আমাদের ওপর বিশ্বাস হারায়নি। শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও, এই বন্ধন যেকোনো জয়ের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।’