
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আজ সোমবার (১ জুন) নির্ধারিত অনলাইন বৈঠক করতে পারেননি। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সভাটি হওয়ার কথা ছিল।
আজ সকাল থেকে রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশায় ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু হলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিতব্য পর্ষদ সভাটি অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
নতুন নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম আজ সোমবার প্রধান কার্যালয়ে আসার কথা ছিল। ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আন্দোলন হলে তিনি সেখানে আসেননি। পরে সভাটি অনলাইনে করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমতি চায় ইসলামী ব্যাংক।
অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালক পর্ষদের সভা করার অনুমতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেয় জানিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকদের সমাবেশের কারণে পরিস্থিতি বিচেনায় নিয়ে অনলাইনে সভাটি করার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের কারণে শঙ্কা করেছিলাম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-ও হতে পারে। পরিস্থতি অনূকুল না হওয়ায় প্রথম বোর্ড মিটিংটি অনলাইনে করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে গ্রাহকদের দাবিতে অনলাইনে পরিচালক পর্ষদের সভাটি করা সম্ভব হয়নি।
অনলাইনে পরিচালক পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে এমন সংবাদের পর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ফ্লোরে অবস্থান নেন অনেক গ্রাহক। অন্যান্য কয়েকটি ফ্লোরে তারা অবস্থান নিয়ে সব রকমের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থানে আলতাফ হুসাইনের কক্ষের সামনেও অবস্থান নেন গ্রাহকরা। সেখানে তাৎক্ষণিক ব্রিফ করেন ইসলামী ব্যাংকের আলতাফ হুসাইন।
গ্রাহকদের এমন দাবির মুখে বেলা ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে পর্ষদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়নি জানিয়ে আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনলাইনে পরিচালক পর্ষদের বৈঠকটি করা হয়নি।
আলতাফ হুসেইনের কক্ষের বাইরে অবস্থান নেওয়া গ্রাহক নাসির উদ্দিন ভুইঞা রতন বলেন, ২০১৭ সালের মতো ফের ব্যাংক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনলাইনে মিটিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমডির রুমে প্রশাসনের লোকজন আছে, তারা চাপ দিচ্ছে। আমরা কোনো মিটিং করতে দেব না এ চেয়ারম্যানকে।
আলতাফ হুসেইনের কক্ষে সে সময়ে মতিঝিল জোনের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম মিজান বলেন, আমি মতিঝিল জোনের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সকাল থেকে এখানে আছি, আমরা আসছি পরিস্থিতি অনুযায়ী আলোচনা করতে। কোনো প্রকার চাপ দিচ্ছি না মিটিং করতে। আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন।
তখন আলতাফ হুসেইন বলেন, অনলাইন মিটিং করতে কেউ বাধ্য করছে না। কোনো পক্ষ থেকে চাপ নেই।