News update
  • Uneasy Calm In BD Political Arena Over Amendment Or Reform     |     
  • UN experts for urgest action to support Rohingya Refugees in BD     |     
  • Poultry farmers demand 6-point reform to curb corporate monopoly     |     
  • Dhaka ranks 9th among world's most polluted cities     |     
  • Food Safety court fines Sylhet chips factory Tk1 lakh for faults     |     

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রেখেছে রবি

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বানিজ্য 2026-07-28, 8:42pm

img_20260728_204159-467ac4e03e578a5afe759797c8018fa11785249744.jpg




চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা অর্জনের শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রেখেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) হয়েছে ২৬২ দশমিক ৯ কোটি টাকা। আর পিএটি মার্জিন ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত এপ্রিল থেকে জুন সময়ে রবির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১১ দশমিক ৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ সময়ে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে শূন্য দশমিক ৫০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।         

দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির মূলধনী বিনিয়োগ হয়েছে ৭২১ দশমিক ৬ কোটি টাকা। একই সময়ে রবি সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ২ হাজার দশমিক ৩ কোটি টাকা, যা ওই প্রান্তিকে কোম্পানির মোট রাজস্বের ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান।

১২ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখে। ডেটা গ্রাহক এবং ফোরজি গ্রাহকসংখ্যা যথাক্রমে ৪ কোটি ৬২ লাখ ও ৪ কোটি ২১ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে রবির নেটওয়ার্কে ১৭ লাখ নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক এবং ১৮ লাখ নতুন ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হয়েছে। 

দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির সুদ, কর অবচয় ও অ্যামর্টাইজেশন-পূর্ব আয় (ইবিআইটিডিএ) দাঁড়িয়েছে ১,৪৯২ দশমিক ৫ কোটি টাকা, ৫৫ শতাংশ মার্জিন সহ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইবিআইটিডিএ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ইবিআইটিডিএ মার্জিন বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। 

একই সময়ে রবির ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১৯,৬০০ ছাড়িয়েছে, যার মাধ্যমে কোম্পানিটি দেশের ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ মানুষকে ফোরজি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায় আনতে পেরেছে। 

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির রাজস্ব আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ইবিআইটিডিএ বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। বিআইটিডিএ মার্জিন বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট; শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রবির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৫,২৪২ দশমিক ৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভয়েস রাজস্ব ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডেটা রাজস্ব ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

গত জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে রবির ইবিআইটিডিএ দাঁড়িয়েছে ২,৮৪২ দশমিক ৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ইবিআইটিডিএ মার্জিন ছিল ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের বছরে একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এই বছরের প্রথমার্ধে রবি সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ৩,৬৬৬ দশমিক ৬ কোটি টাকা, যা ওই সময়ে রবির মোট রাজস্বের ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথমার্ধ শেষে রবির কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) দাঁড়িয়েছে ৪৯৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০ দশমিক ৯৫ টাকা। এ বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির মূলধনি বিনিয়োগ হয়েছে ১,০৭১ দশমিক ১ কোটি টাকা।

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, “অর্থনীতিতে আবারও গতি ফিরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাচ্ছি। কারণ দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় আমাদের রাজস্ব ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে বিপুলসংখ্যক নতুন ডেটা ও ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হওয়া এবং ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডেটা রাজস্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে রবির সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশই ফোরজি ব্যবহারকারী। কোম্পানির মোট রাজস্বে ডেটা থেকে আসা আয়ের অংশ এখন প্রায় ভয়েস রাজস্বের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই সূচকগুলো প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে পছন্দের টেলিযোগাযোগ অপারেটর হিসেবে রবি আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। শক্তিশালী আর্থিক শৃঙ্খলার ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকেও কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।”

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান জিয়াদ সাতারা। 

২০৩১ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করায় সরকারের প্রশংসা করেন জিয়াদ সাতারা। তাঁর মতে, এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হলে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সিম কর ও সিম রিপ্লেসমেন্ট কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা ঘোষিত নীতির বাস্তবায়নে আন্তরিক। এ ছাড়া বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রণোদনা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান জিয়াদ সাতারা। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ রবির নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনের যাত্রাকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেবে।